
দুই মাস আগে প্যারিসে যে হাত শূন্যতায় ঝুলে ছিল, সেই হাতই এবার লন্ডনের সেন্টার কোর্টে তুলে ধরল সোনালি ট্রফি! ফ্রেঞ্চ ওপেনে অপ্রত্যাশিত বিদায়ের হতাশা পেছনে ফেলে উইম্বলডনে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন ইয়ানিক সিনার। আলেকজান্ডার জভেরেভকে চার সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার অল ইংল্যান্ড ক্লাবের মুকুট ধরে রাখলেন ইতালির এই টেনিস তারকা! ফাইনালের শুরুটা অবশ্য সিনারের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। প্রথম সেটে দুই খেলোয়াড়ই একে অপরকে এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দেননি। টানা ১২ গেমে সমানতালে লড়াইয়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড উইনারে ৯-৭ পয়েন্টে টাইব্রেকার জিতে ৭-৬ গেমে প্রথম সেট নিজেদের করে নেন জার্মান তারকা জভেরেভ। সেট জয়ের পর কোর্টেই হাঁটু গেড়ে বসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি, যেন শিরোপার পথে বড় একটি ধাপ পার করে ফেলেছেন।
কিন্তু সেই মুহূর্তেই যেন নিজের প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা শুরু করেন সিনার। দ্বিতীয় সেটেও লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। এবার অবশ্য ভুল করেননি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়। ৭-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। সেই মুহূর্ত থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে চলে আসে ইতালিয়ান তারকার হাতে।
তৃতীয় সেটে নিজের ছন্দ পুরোপুরি ফিরে পান সিনার। আক্রমণাত্মক সার্ভিস, নিখুঁত বেসলাইন খেলা এবং ধারালো ফোরহ্যান্ডে জভেরেভকে চাপে রেখে ৬-৩ গেমে সেট জিতে নেন তিনি। চতুর্থ সেটে জার্মান তারকার খেলায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটতেই সুযোগ লুফে নেন সিনার। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার্ভিস ব্রেক করে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দারুণ কয়েকটি শটে ৬-৪ গেমে শেষ সেট জিতে শিরোপা নিশ্চিত করেন ২৪ বছর বয়সী এই তারকা। শেষ পয়েন্ট জয়ের পর আবেগে সেন্টার কোর্টের ঘাসে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ৬-৭ (৭-৯), ৭-৬ (৭-২), ৬-৩, ৬-৪ গেমের এই জয় শুধু আরেকটি শিরোপা নয়, সিনারের ক্যারিয়ারে নতুন এক মাইলফলকও হয়ে থাকল। এটি তার পঞ্চম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার উইম্বলডন জিতে তিনি পেশাদার বা উন্মুক্ত যুগে উইম্বলডন শিরোপা ধরে রাখা মাত্র দশম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নিলেন অভিজাত এক তালিকায়। একই সঙ্গে আলেকজান্ডার জভেরেভের বিপক্ষে টানা দশম জয় তুলে নিলেন তিনি।
টেনিসের আনঅফিসিয়াল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজের আবেগ লুকাতে পারেননি সিনার। তার কাছে এই শিরোপার মূল্য অন্য যেকোনো সাফল্যের চেয়েও বেশি। কারণ, মাত্র দুই মাস আগেই ফ্রেঞ্চ ওপেনে দ্বিতীয় রাউন্ডে হুয়ান ম্যানুয়েল সেরুন্দোলোর কাছে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন তিনি। সেই হতাশার পর নিজেকে আবার নতুন করে গড়ে তুলে উইম্বলডনে শিরোপা ধরে রাখা তার কাছে বিশেষ অর্জন। পুরস্কার প্রদান মঞ্চে সিনার বলেন, প্রতিটি গ্র্যান্ড স্লামের গল্প আলাদা, অনুভূতিও আলাদা। তবে এই শিরোপা তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্যারিসের হতাশার পর সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। সেই কঠিন সময় কাটিয়ে আবার শীর্ষে ফিরতে পারার আনন্দই তাকে সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি আরও জানান, উইম্বলডনের জন্য নিজেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। মোনাকোতে দীর্ঘ অনুশীলন সেশন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা ত্যাগ এবং প্রতিনিয়ত নিজের খেলাকে আরও উন্নত করার চেষ্টার ফলই কোর্টে পেয়েছেন তিনি।