ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হজ নিয়ে যা না জানলেই নয়

রায়হান রাশেদ
হজ নিয়ে যা না জানলেই নয়

হজ মুসলমানদের বিশ্ব সম্মেলন। হজকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর সামর্থ্যবান মুসলমানরা মক্কায় জড়ো হন। নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত নিয়মে সবাই একসঙ্গে হজের আমল করেন। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দিন। তারা আপনার কাছে আসবে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটসমূহের পিঠে (আরোহণ করে), তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা হজ : ২৭)।

হজ হলো নিয়তসহ ইহরাম পরে নির্দিষ্ট দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান ও কাবা শরিফ তওয়াফ করা। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৪)।

হজের সময় : হজের নির্দিষ্ট সময় হলো আশহুরুল হুরুম বা শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন; বিশেষত জিলহজের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়।

হজের স্থান : হজের নির্ধারিত স্থান পবিত্র কাবা, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা। দূরের হাজিদের জন্য মদিনা মুনাওয়ারায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করা ওয়াজিব।

হজের কাজ

তালবিয়া পাঠ করা।

কাবাঘর তওয়াফ করা।

সাফা ও মারওয়া পাহাড় সাঈ করা।

আরাফা, মুজদালিফা ও মিনায় অবস্থান করা।

শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করা।

দম ও কোরবানি করা।

মাথা মুণ্ডন বা চুল কাটা।

মদিনা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কবর জিয়ারত ইত্যাদি।

হজের বিধান : হজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ ও রোকন। আর্থিক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাবাঘরের হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে লোকসকল, আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। আকরা ইবনে হাবিস (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এটা কি প্রত্যেক বছর ফরজ?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তবে ফরজ হয়ে যেত। প্রতি বছর হজ ফরজ হলে তা তোমরা সম্পাদন করতে সক্ষম হতে না। এ জন্য হজ জীবনে একবারই ফরজ। কেউ যদি একাধিকবার করে, তবে তা হবে নফল হজ।’ (বোখারি : ৭২৮৮)।

হজের প্রকার : হজ তিন প্রকার- ইফরাদ, তামাত্তু ও কিরান।

ইফরাদ : শুধু হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই ইহরামেই হজের সব আমল সম্পন্ন করা।

তামাত্তু : শুধু ওমরার নিয়তে ইহরাম ধারণ করে উমরার কাজ সমাপ্ত করা, এরপর মাথা মুণ্ডিয়ে ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে ওই সফরেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজের সব আমল শেষ করা।

কিরান : একসঙ্গে ওমরা ও হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই (একই) ইহরামেই ওমরা ও হজ পালন করা।

এ তিন প্রকার হজের মধ্যে সওয়াবের দিক দিয়ে সর্বাধিক উত্তম হলো- কিরান, এরপর তামাত্তু, এরপর ইফরাদ। তবে আদায়ের ক্ষেত্রে সহজতার বিবেচনায় প্রথমে তামাত্তু, এরপর ইফরাদ, এরপর কিরান হজ উত্তম। তামাত্তু হজ পালন সহজ হওয়ায় অধিকাংশ বাংলাদেশি তামাত্তু হজ আদায় করে থাকেন। আর যারা অন্যের বদলি হজ করতে যান বা যাদের অবস্থান মিকাতের মধ্যে, তারা সাধারণত ইফরাদ হজ করেন। এ ছাড়া কিছুসংখ্যক হাজী কিরান হজ করেন, তবে এদের সংখ্যা খুব কম। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৯)।

শ্রেষ্ঠ আমল হজ : যে কাজে কষ্ট বেশি, তার সওয়াব ও ফজিলত বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ইমান আনার পর জিহাদ ও হজকে সর্বোত্তম আমল বলা হয়েছে। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ইমান আনা।’ প্রশ্ন করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ আবার প্রশ্ন করা হলো, ‘এরপর কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘গ্রহণযোগ্য হজ।’ (বোখারি : ১৫১৯)।

হজ মানুষকে নিষ্পাপ করে: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করল এবং এ সময় অশ্লীলতা ও গোনাহের কাজ থেকে বিরত থাকল, সে যেন নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরল।’ (বোখারি : ১৫২১)।

কবুল হজের বিনিময় জান্নাত : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক ওমরাহ আরেক ওমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গোনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর মাবরুর হজের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (বোখারি : ১৭৭৩)।

হজ না করার পরিণাম ভয়াবহ : সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। ফরজ হজ না করলে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের মতো মৃত্যু হবে বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘যে হজ করার সামর্থ্য রাখে, তবু হজ করে না, সে ইহুদি না খ্রিষ্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করল, তার কোনো পরোয়া আল্লাহর নেই।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৭৮)।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত