ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কাউখালীতে কর্মকর্তা সংকটে স্থবির প্রশাসন, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

কাউখালীতে কর্মকর্তা সংকটে স্থবির প্রশাসন, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ দপ্তরে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং উপজেলা পোস্টমাস্টারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং জনভোগান্তি বেড়েই চলেছে।

শুধু প্রশাসনিক দপ্তরই নয়, শিক্ষা ক্ষেত্রেও সংকট প্রকট। উপজেলার সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ে মোট ৩৪টি শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে বালিকা বিদ্যালয়ে মাত্র ৬ জন এবং বালক বিদ্যালয়ে ৩ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস ও ভূমি অফিসে কর্মকর্তা না থাকায়। বর্তমানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন সিরাজী কাউখালীসহ তিনটি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সপ্তাহে শুধুমাত্র মঙ্গলবার কাউখালী অফিসে আসেন। ফলে উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিল-ভাউচার নিষ্পত্তি, সরকারি অর্থ উত্তোলন এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মানসী ইসলাম কাউখালীর পদে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে ঢাকায় অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকায় স্থানীয় সমবায় সমিতিগুলো নিয়মিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তামান্না খুরশিদ জাহান তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন এবং সপ্তাহে মাত্র একদিন কাউখালী অফিস করেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরে জান্নাত জিয়ান জিয়ানগর উপজেলার মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কাউখালীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা উজ্জ্বল দেবনাথ নেছারাবাদ উপজেলার মূল দায়িত্বে থেকে সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন কাউখালীতে অফিস করেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিউর রহমান পিরোজপুর সদর উপজেলায় কর্মরত থেকে কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কর্মকর্তা নেই। অফিসের একমাত্র কর্মচারী মো. আসাদুজ্জামান দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে প্রায়ই উপজেলার বাইরে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে অধিকাংশ সময় অফিসটি তালাবদ্ধ থাকে।

এছাড়া উপজেলা পোস্টমাস্টারের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় অপারেটরের মাধ্যমে ডাক বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে ডাক বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাউখালীতে মূল দায়িত্বে থাকলেও আরও দুটি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে উপজেলা অফিসে নিয়মিত পাওয়া যায় না।

ভুক্তভোগী কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, জরুরি প্রয়োজনে কোনো সরকারি দপ্তরে গেলে প্রায়ই শুনতে হয়, “কর্মকর্তা নেই” অথবা “অন্য উপজেলা থেকে কর্মকর্তা এলে কাজ হবে।” ফলে একটি সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতেও বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুটোরই অপচয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “উপজেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় অন্য উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মকর্তা সংকটের সমাধান হবে।”

দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ,স্থবির প্রশাসন,কর্মকর্তা সংকট,কাউখালী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত