
সিরাজগঞ্জে এবার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে কাউন চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ কাউন কাটা ও মাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১২৫ হেক্টর জমিতে কাউন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি এ লাভজনক কাউন চাষাবাদ করেছেন এবং উৎপাদন হয়েছে ১১৫ মেট্রিক টন দেশীয় জাতের কাউন।
এ ছাড়া যমুনা নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সবচেয়ে বেশি কাউন চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজিপুর উপজেলার নাটোয়ারপাড়া, তেকানি, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ি, চরগিরিশ ও শুভগাছা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে অধিকাংশ কৃষক প্রতিবছরই এ লাভজনক ফসলের চাষাবাদ করে থাকেন।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, প্রতিবছর মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে কাউনের বীজ বপন করা হয়। এ চাষাবাদে সারসহ বিভিন্ন খরচও কম হয়ে থাকে। চরাঞ্চল ও দোঁআশ মাটিতে এ ফসলের উৎপাদন বেশি হয়। এজন্য চরাঞ্চলের কৃষকেরা এ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। তবে নদীভাঙনের কারণে অনেক কৃষক ক্ষতির শিকার হন।
চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এ লাভজনক চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। গত মাসের মাঝামাঝি থেকে কাউন কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে এবং সব কাউন কাটা ও মাড়াই শেষ হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।
স্থানীয় হাটবাজারে নতুন কাউন উঠছে এবং প্রতি মণ কাউন ২ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাউনের চালের পায়েস, জাউ, মোয়া, খাজাসহ বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি হয়ে থাকে। এজন্য হাটবাজারে কাউনের চালের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এ চাষাবাদে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, কম খরচে এ লাভজনক চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রতিবছর কৃষকেরা এ চাষাবাদ করে থাকেন।
ইতোমধ্যেই প্রায় ৭০ শতাংশ কাউন কাটা ও মাড়াই শেষ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।