ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর করায় ৮ ঘণ্টা রেল অবরোধ

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর করায় ৮ ঘণ্টা রেল অবরোধ

রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত টিটিইদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে ক্যাম্পাসের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করলে প্রায় আট ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

পরে প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফুরকান উদ্দিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফেরার পথে তিনি দেখেন, যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায় করছেন কয়েকজন টিটিই। এর প্রতিবাদ করলে ৬-৭ জন টিটিই তাকে পেছন থেকে গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যান। পরে ঘাড় ও পিঠে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং একপর্যায়ে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। এতে তার চশমা ভেঙে যায়।

ফুরকান উদ্দিন বলেন, “রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। টিকিট ইস্যু না করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি দেখে আমি প্রতিবাদ করি। এরপর তারা আমাকে ধরে নিয়ে মারধর করে। জানালার ধারে নিয়ে ধাক্কা দেয়। আমি পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আমি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

আন্দোলনকারীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— অভিযুক্ত টিটিইকে শিক্ষার্থীদের সামনে এনে জবাবদিহির আওতায় আনা, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, “অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের এক ভাইকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানায় রাকসু। অবরোধস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। ফেসবুক পোস্টে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

পরে মঙ্গলবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে গভীর রাতে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু এবং আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আরেকটি সভা করার সিদ্ধান্ত হয়।

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এমন আশ্বাস পাওয়ার পরই আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করেছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেটির প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছিল। উপাচার্যের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হওয়ায় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা অবরোধ তুলে নিতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করি।”

তিনি আরও বলেন, “মারধর, ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগ— সব বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

রেল অবরোধ,রাবি শিক্ষার্থী,মারধর,৮ ঘণ্টা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত