অনলাইন সংস্করণ
১৭:৩৬, ২০ মে, ২০২৬
পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমান দামের তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ।
বুধবার (২০ মে) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। শুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন।
গণশুনানিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তার মতে, বিদ্যুতের দাম সমন্বয় না করলে বিদ্যুৎখাত বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলার সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই মূল্যবৃদ্ধির এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনের সদস্যরা। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে শিল্প-কারখানার উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রস্তাবে জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই এই গণশুনানি বাতিলের দাবি জানান তিনি।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, বিদ্যুৎখাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত সক্ষমতা ভাড়া এবং দুর্বল পরিকল্পনার দায় সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বিদ্যুৎখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন। শুনানি শেষে কমিশন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।