ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও মূল্য বৃদ্ধির জন্য কঠোর করনীতি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের যৌথ আয়োজনে ‘আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি। তিনি বলেন, দেশে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়াচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এই ক্ষতি কমাতে তামাকপণ্যের দাম শুধু বাড়ালেই হবে না, বরং তা মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি হতে হবে।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল এবং বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান।

তারা বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য এখনও অনেক সস্তা। মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম না বাড়ায় এসব পণ্য সহজলভ্য রয়ে গেছে, ফলে তরুণরা সহজেই এতে আসক্ত হচ্ছে।

তারা আরও জানান, বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব হারাচ্ছে। কার্যকর করনীতি বাস্তবায়ন করা গেলে ধূমপান কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

অনুমান অনুযায়ী দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যেখানে রাজস্ব আয় ছিল মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা।

মূল প্রবন্ধে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সিগারেটের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম বেড়েছে। ফলে তামাকপণ্য আরও সস্তা হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে বর্তমানে চার স্তরের সিগারেট রয়েছে। আসন্ন বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে তিন স্তর করার পাশাপাশি প্রতিটি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১০০, ১৫০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতিটি প্যাকেটে নির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হক বলেন, বাজেটের আগে তামাক কর বৃদ্ধি ঠেকাতে কোম্পানিগুলো চোরাচালানের ভয় দেখায়, যা ভিত্তিহীন। বাস্তবে প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম অনেক কম হওয়ায় চোরাচালানের সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, তামাক কোম্পানির বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও গুজব মোকাবেলায় সাংবাদিক সংগঠন সবসময় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। সভায় সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মূল্য বৃদ্ধির দাবি,কার্যকর কর,তামাকপণ্য,জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত