
সিরাজগঞ্জে মৌসুমি ইরি বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এ চাষাবাদে কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। এরইমধ্যে প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। তবে শীতজনিত কারণে এ চাষে কিছুটা বিলম্ব ঘটছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এ ইরি বোরো চাষাবাদ শুরু করেছে কৃষকেরা। বিশেষ করে এ জেলার নিম্নাঞ্চল শস্যভান্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকার তাড়াশ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও শাহজাদপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে এ চাষাবাদ শুরু হয়েছে এবং এ ধানের চারা রোপণে জমি প্রস্তুতও করছে কৃষকেরা। এছাড়াও সেচ কাজে ব্যবহৃত ড্রেনও সংস্কার চলছে। কৃষকরা বলছেন, এবার ইরি বোরো চাষাবাদে খরচ অনেকটা কম হয়ে থাকে। এ কারণে প্রতিবছরে ন্যায় এবারও কৃষকেরা এ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে। কৃষকেরা জমিতে মিনিকেট, কাটারিভোগ ও ব্রি-২৯ উল্লেখযোগ্যসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি প্রচণ্ড শীতজনিত কারণে অনেক বীজতলা বিনষ্ট হয়েছে।
এ কারণে স্থানীয় হাট-বাজারে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা সংকট ও মূল্য বৃদ্দি ঘটছে এবং ৮০ তারে প্রতিপণ ধানের চারা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। সেইসঙ্গে দিনমজুরের দামও গত বছরের চেয়ে এবার বেশি।
এতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা হিমশিম খাচ্ছে। নদী নালা খাল বিল অঞ্চলেও এ চাষাবাদ করা হচ্ছে। তবে আগাম বা হাইব্রিড জাতের ধানের চারা এরইমধ্যে রোপণ প্রায় শেষের দিকে এবং অনান্য জাতের ধানের চারা জমিতে রোপণে শুরু করছে কৃষকেরা। এছাড়া অনেক স্থানে সার সংকট অজুহাতে অসৎ সার ব্যবসায়ীরা সারের দাম কিছুটা বেশি নিচ্ছে।
এমন অভিযোগ নজরে আসছে না প্রশাসনের। এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা বলেন, এ জেলার নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ইরি বোরো চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে কৃষকেরা প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে এ চাষাবাদ করেছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এ চাষাবাদে পরামর্শও দিচ্ছে এবং আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এ চাষাবাদ শেষ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।