
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে যুগপৎ জোট ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জননেতা জোনায়েদ সাকী, নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে জোনায়েদ সাকী বলেন, তিনি ২০২২ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত নয়ন মিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, আন্দোলনে অনেকেই রক্ত দিয়েছেন, আত্মত্যাগ করেছেন। ২৪-শের জুলাইয়ে বাঞ্ছারামপুরে ৪ জন আত্মদান করেছে, সেই ত্যাগের দায়বদ্ধতা থেকে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার তিনি বলেন, আমরা একটি অবাধ, সুুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। যেখানে জনগণ যাদের ভোট দিবেন। সে ক্ষমতায় বসবে। পেছনের দরজা দিয়ে নয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই। জনগণ যাকে পছন্দ করবে, সেই বিজয়ী হবে। এটি আমরা বিশ্বাস করি এবং এটি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেব। তিনি দাবি করেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছে এবং ভোটারদের সচেতন করেছে। তার জবাব জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে দিবে।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং জোনায়েদ সাকী অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ থেকে কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির কথাও শোনা যাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি দল তার নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে বাঁশের লাঠি নিয়ে আসার আহ্বান, লাঠি মজুত রাখা এবং উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, যা নির্বাচনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার সংবলিত একটি অটোরিকশা জব্দের ঘটনায় চালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর স্থানীয় নেতারা থানায় গিয়ে ছিলেন তাকে ছাড়ানোর জন্যে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা পরিকল্পিত উসকানির অংশ হতে পারে। জোনায়েদ সাকী বাঞ্ছারামপুরের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন- প্রতিটি ভোটার যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটিই আমরা চাই। জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোক।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।