
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিহত শিক্ষকের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী চারজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এর মর্গে নিহত শিক্ষকের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সহকর্মী ও স্বজনরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। নিহত শিক্ষকের জানাজায় কুষ্টিয়া-৩ আসনে সংসদ সদস্য ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. ইয়াকুব আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ চার সন্তানের জননী।
প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।