ঢাকা শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

এশিয়ার বৃহত্তম আমগাছে মুকুলের সমারোহ

এশিয়ার বৃহত্তম আমগাছে মুকুলের সমারোহ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণমারী সীমান্তের নয়াবাড়ি মণ্ডুমালা গ্রামে অবস্থিত সূর্যপুরী আমগাছটি। প্রায় তিন বিঘা জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছটি। অসংখ্য ইতিহাসের সাক্ষী প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রাচীন এই আমগাছ।

উত্তরের জনপদে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এ গাছটি ৯০ ফুট উঁচু। এর ডালপালার দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ ফুট। গাছটির বয়স কত, তা সঠিক কেউ বলতে না পারলেও এলাকার বেশির ভাগ মানুষই একমত যে, প্রায় ২৫০ বছরের কম হবে না এর বয়স।

মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আমগাছটি। চোখে পড়ছে না গাছের পাতা। গাছের শাখায় শাখায় বাতাসে দোল খাচ্ছে মুকুলের থোকা। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মণ্ডম গন্ধ। সবচেয়ে বড় আমগাছটির শাখা-প্রশাখা আর মুকুলের ঘ্রাণ বিমোহিত করছে গাছটি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আমগাছটির বর্তমান মালিক হলেন নূর ইসলাম ও সাইদুর ইসলাম। জানা যায় তাদের দাদার দাদারা এ গাছটি লাগিয়েছিলেন। প্রতিবছর গাছটিতে প্রচুর সূর্যপুরী আমের ফলন হয়। প্রতিটি আমের ওজন হয় ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম। বরাবরের মতো এবারও গাছটি মুকুলে ভরে গেছে। এতে এর সৌন্দর্য বেড়েছে বহুগুণ। দূর থেকে দেখা যায় আরও সুন্দর। এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় আমগাছ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সূর্যপুরী আমগাছ। এটিকে ঘিরে এরইমধ্যে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারি গ্রাম পরিচিতি পেয়েছে দেশজুড়ে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমগাছটি দেখার জন্য ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

হরিনমারী এলাকার পল্লী চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জেনেছি যে আমাদের এলাকার এই আম গাছটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় সূর্যাপুরি আমগাছ। ছোটবেলা থেকেই নিজ চোখে দেখে আসছি এই গাছেন মহত্ত্ব। বিশ্বাস করতে ভালো লাগছে যে এটি এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় আমগাছ। তবে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত বলে আমি মনে করি। মালিকপক্ষ জানায়, এখানে জমির খাজনা, সরকারি ট্যাক্সের কারণে ভেতরে দর্শনার্থী প্রবেশ বাবদ ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে কিছু বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও মানুষ মানে না। গত বছরের চেয়ে এ বছর মুকুল অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। গত বছর ৮০ মণ আম পেয়েছি। এ বছর যে হারে মুকুল ধরেছে, তাতে ৩০০ মণ আম পাব বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, বাজারের অন্য আমের চেয়ে এই গাছের আমের দাম একটু বেশি রাখা হয়। যেহেতু এটির চাহিদা অনেক বেশি। আমরা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি।

বালিয়াডাঙ্গী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. টিএম মাহবুবর রহমান বলেন, যেহেতু গাছটি ব্যক্তিমালিকাধীন, তাই তারা চাইলে সেখানে উন্নতমানের পিকনিক স্পষ্ট, রেস্ট হাউস ও রেস্টুরেন্ট করতে পারেন। এ বিষয়ে যদিও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মালিক আমগাছ এলাকাটি উন্নতমানের পর্যটন শিল্প এলাকায় পরিণত করতে পারে। এতে আমরা এলাকার জীবনমান পরিবর্তন হবে বলে মনে করছি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত