
চলতি বোরো মৌসুমে রায়পুর উপজেলায় ধান চাষে আশাব্যঞ্জক চিত্র ফুটে উঠেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, এ বছর মোট ১০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় আবাদ বেড়েছে ১০০ হেক্টর। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আবাদ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে কৃষি বিভাগ। এ মৌসুমে সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ৬৯ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন ধান।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো চারা রোপণ কার্যক্রম শেষ হওয়ায় এবার ফলনের সম্ভাবনা ভালো। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন এবং চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে করে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ৯নং উত্তর চর আবাবীল, ৭নং বামনী, চর মোহনা ও ৫নং চরপাতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজ ধানের সমারোহ। কোথাও কোথাও ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
৯নং উত্তর চর আবাবীল এলাকার কৃষক আবদুল কাদের বলেন, এ বছর ধানের গাছ ভালো হয়েছে। নিয়মিত সেচ দিচ্ছি এবং কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী সার ব্যবহার করছি। ফলন ভালো হলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।
৭নং বামনী ইউনিয়নের কৃষক মো. হানিফ জানান, আবাদ কিছুটা বেড়েছে। তবে সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। ধানের দাম ভালো পেলে আমরা লাভবান হতে পারবো।
চর মোহনার কৃষক সেলিম উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত বড় কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে পোকামাকড়ের আক্রমণ হলেও কৃষি অফিসের পরামর্শে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে ফলন ভালো হবে।
৫নং চরপাতা এলাকার কৃষক জাকির হোসেন বলেন, সেচ খরচ একটু বেশি। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে। তবুও আমরা আশা করছি ফলন ভালো হলে সব খরচ উঠে আসবে। উপজেলা কৃষি অফিসার মাজেদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং করছি। কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে ৬৯ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, কোনো জমিতে রোগবালাই বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো ধান রায়পুর উপজেলার কৃষকদের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত ধান বাজারজাত করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সবমিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া ও প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে রায়পুর উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।