
কুমিল্লার তিতাসে প্রদর্শনী প্লটে কিং জাতের পেঁয়াজ চাষ করে সফলতা পেয়েছে স্থানীয় কৃষক মো. সফুর উদ্দিন। কড়িকান্দি ইউনিয়নের বন্দরামপুর ব্লকে ৩৩ শতাংশ জমিতে এ পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার জমি থেকে উক্ত পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়। সরকারি সুবিধার বাহিরে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ করে বাড়তি চল্লিশ হাজার টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর অধীনে তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের বন্দরামপুর গ্রামে পেঁয়াজের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। রবি মৌসুমের এ প্লটে পেঁয়াজের কিং জাত চাষ করা হয়েছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করায় আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ বিষয়ে উক্ত ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকার বলেন, ফলন পার্থক্য কমানো প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তি হাতে-কলমে দেখানো। এই প্রদর্শনী দেখে আশপাশের কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এবং উন্নত পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উক্ত এলাকার একাধিক কৃষক জানান, এই প্লটে পেঁয়াজ গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দেখে তারা উৎসাহিত হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব এ বিষয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। অনেকেই আগামী মৌসুমে একই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উক্ত প্লটের কৃষক মো. সফুর উদ্দিন বলেন, আগে প্রচলিত পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করে এবার ভালো ফলন পেয়েছি। পেঁয়াজের আকার ও উৎপাদন দুটোই ভালো হয়েছে। এতে আমি খুবই খুশি। ভবিষ্যতেও একই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করব। এবার আমার হালচাষ ও পানি দেওয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বীজ ও সার কৃষি অফিস দিয়েছে। যে পেঁয়াজ পেয়েছি তা থেকে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা আয় হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, চলতি অর্থবছরে উপজেলায় মোট ২৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের বিভিন্ন সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও লাভজনক কৃষি নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।