
প্রায় আধা ঘন্টা শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে নীলফামারীর ডোমারে কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতিসাধিত হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১১টায় হতে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে স্মরণকালের শিলাবৃষ্টিতে ফসলের মাঠকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় এবং ক্ষতিসাধিত হয়েছে মানুষের বসতবাড়ী।
ফসলের মাঠে বোরো ধান, ভুট্টা, আখ, কলা, বেগুন, মরিচসহ সব ধরনের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যা রিকোভার করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভুট্টা মরিচ বেগুন গাছগুলো পাতাহীন দাড়িয়ে আছে। বোরো ধান গাছ ছিঁড়ে জমিনে পড়ে আছে। কলাগাছ গুলো দুমড়ে মুছড়ে মাথা নুয়ে কোন রকম দাঁড়িয়ে আছে। কথা হয় বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী গ্রামের কৃষক মো. ইব্রাহীম আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন আমি দশ বিঘা জমিতে কলা, পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা ও একবিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। শিলা বৃষ্টিতে আমার সব আবাদ শেষ হয়ে গেছে। কৃষক আজিজার রহমান, ইয়াছিন আলী, দিলীপ রায়, অঘোর চন্দ্র রায়, মজিবর রহমান, রবিউল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন জানান, ঋণ কর্জ ও বাকীতে সার বীজ কিনে আবাদ করেছি। জীবনে প্রথম দেখা এই শিলাবৃষ্টি। নিমিশেই আমাদের সব আবাদ শেষ করে দিয়েছে। আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, যা কেনোভাবেই পুশিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো. রফিকুল ইসলাম ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব হাচানসহ শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ পরিদর্শনে এসে বলেন, উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে পশ্চিম বোড়াগাড়ী এলাকায় তুলনামুলক বেশি ক্ষতি হয়েছে। ধান ১৩ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির মধ্যে ১৫০ হেক্টর, ভুট্টা ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টরের মধ্যে ২০০ হেক্টর, মরিচ ৮০০ হেক্টরের মধ্যে ৩০ হেক্টর, কলা ১৮ হেক্টরের মধ্যে ৫ হেক্টর ও আখ ১২ হেক্টরের মধ্যে ৪ হেক্টর জমির আবাদ ক্ষতি হওয়ার ধারণা করছি।