
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের ক্ষেত্রে অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সময় নিয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো সময় নিচ্ছে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের করুণ পরিণতি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গতকাল সোমবার ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণ যদি ব্যাংক থেকে তাদের আমানত তুলে নিতে শুরু করে এবং প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দেয়, তাহলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে এবং তারল্য সংকট দেখা দেবে। এর ফলে অরাজকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সাদ্দাম বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালালেও এখন তারা সেটি মানছে না।
বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক ত্যাগের বিনিময়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের প্রতি প্রত্যাশা ছিল তারা দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করবে- হোক তা নির্বাচনের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায়। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সর্বসম্মতিতে গৃহীত অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিএনপি সেগুলো নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তন করছে এবং নতুন আইন প্রণয়ন করছে।
৩১ দফা প্রসঙ্গে শিবির সভাপতি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া ৩১ দফার প্রথম দফাটিই এখন তারা মানছে না। এছাড়া প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ না দেওয়ার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে তারা দলীয় লোক নিয়োগের পথ তৈরি করেছে।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপ-এর নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দেওয়ার পর গ্রাহকেরা টাকা তুলতে পারেননি। সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যেখানে অর্থ পাচারকারীদের মালিকানা সীমিত করার কথা বলা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার সেটি শিথিল করে ৭% শেয়ার থাকলেই পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ দিয়েছে। এটা পরিষ্কার যেতারা নিজেরা নিজেদের সঙ্গে মুনাফিকি করছে।
সাদ্দাম দাবি করেন, একটি গ্রুপ এই সরকারকে অকার্য করা করার উদ্দেশ্যে নানান পাঁয়তারা করে চলেছে।
এসময় ছাত্রশিবিরের ঠাকুরগাঁও শহর শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।