
নারায়ণগঞ্জে আসন্ন হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগরভবনে পৃথক দুটি সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান জানান, গত সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে ১১ দিনব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ সারাদেশের ন্যায় অত্র জেলায়ও পালন করা হইবে।
উক্ত ক্যাম্পেইনে প্রথম ৮০০ অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে ৬ মাস হইতে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ১ ডোজ হামের টিকা দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ৩ দিন বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত একই বয়সী শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ ডোজ হামের টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়াও যে সবল শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/কমিউনিটিতে বাদ যাবে তারা উপজেলা হাসপাতালে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে। হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এ নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলায় (নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ব্যতিত) লক্ষ্যমাত্রা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩২৯১৯ জন এবং বিদ্যালয় বহিস্থত সাব-ব্লকে ২,২৬,২৮২ জন। সর্বমোট লক্ষ্যমাত্রা ২,৫৯,৩৮৬ জন।
জেলার ৫টি উপজেলায় প্রতিদিন ১৩২টি টিম কাজ করবে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় অস্থায়ী ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র ১,০৫৬টি। প্রতি কেন্দ্রে কমপক্ষে ১ জন টিকাদান কর্মী ও ২ জন স্বেচ্ছাসেবক মোট ৩ জন (স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীসহ), শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে আয়োজিত পৃথক সম্মেলনে নাসিক এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলম জানান, মহানগরীর তিনটি জোনে ১৪ কার্যদিবসব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ৮ কার্যদিবসে কমিউনিটি পর্যায়ে এবং পরবর্তী ৬ কার্যদিবসে স্কুল পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
নগরীর ১২৫টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে মোট ৭৭ হাজার ৯৮৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানান, হামণ্ডরুবেলা একটি সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ সম্ভব। তাই অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় হাম-রুবেলার উপসর্গ নিয়ে ৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
নমুনা পরীক্ষার পর ১৯ জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়। তারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৩ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল, এর মধ্যে ৪ জনের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয় এবং তারাও চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। তবে রূপগঞ্জে আক্রান্ত দুই শিশুর মৃত্যু ঢাকার একটি হাসপাতালে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।