
ঘটনার ১১ বছর পর ভুক্তভোগী পরিবার পেল ন্যায়বিচার। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে ফরহাদ হোসেন ওরফে ফরহাদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ফরহাদ আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালত অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফরহাদকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। তবে যাবজ্জীবন ও ১৪ বছরের সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবনই ভোগ করতে হবে।
একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গ্রামের প্রশান্ত কুমার মণ্ডলকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ফরহাদ হোসেন ৩৫, সে একই গ্রামের বাসিন্দা ও আশরাফ হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ভুক্তভোগী কিশোরী বাবার জন্য খাবার নিয়ে দোকানে যান। এরপর সে নিখোঁজ হয়। ১৯ দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর তার বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় ফরহাদ হোসেন ও প্রশান্ত কুমার মণ্ডলকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ভাঙ্গা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক এসআই সৌমেন মৈত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রায় ১১ বছর পর আদালত রায় ঘোষণা করলেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি পিপি গোলাম রব্বানী ভুইয়া রায়ের পর বলেন, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ফরহাদ হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এ রায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে। দীর্ঘদিন পর হলেও বিচার হয়েছে, এটাই বড় কথা।
আইনজীবীরা বলছেন, ১ বছর ধরে চলা এই মামলার রায় ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য স্বস্তির। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকায় রায় কার্যকর করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পুলিশ এখন ফরহাদকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এই রায়ের খবরে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নারী ও শিশুর প্রতি যেকোনো সহিংসতার ঘটনায় দেরিতে হলেও বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধীরা ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে সাহস পাবে না।