ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চলনবিলে পাট চাষিদের সুদিন ফিরছে

চলনবিলে পাট চাষিদের সুদিন ফিরছে

পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অধ্যুষিত উপজেলাগুলোতে সোনালি আঁশ পাটের সুদিন ফিরে এসেছে। চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, পাট চাষিরা এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে নতুন পাটের দাম পেয়ে কৃষক বেজায় খুশি। কৃষকরা দাবি করছেন, ইতঃপূর্বে প্রণোদনার অভাব, বাজারজাতকরণে সমস্যা, ভালো দাম না পাওয়ায় পাট চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিলেন। এক সময়ের সোনালি আঁশ পাটের ঐতিহ্য, ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। হঠাৎ করে পাটের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের খরচ পুড়িয়ে লাভবান হওয়ায় তারা পাট আবাদে ঝুঁকে পড়েছে।

চাটমোহর কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখানে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে। বিঘাপ্রতি ফলনও ভালো হয়েছে।

সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষ, পাট বীজ উৎপাদন এবং কৃষি অফিসের সার্বক্ষণিক সহায়তায় এ এলাকার পাট চাষিরা সুফল পাচ্ছেন। বর্তমানে পাটের ভালো দাম থাকায় চাষিদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

জালেশ্বর কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, ৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। কৃষি শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় পাট চাষাবাদে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বেশি টাকা দিয়ে শ্রমিক মিলছে না। এদিকে ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিও নেই। পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া সমস্যা হচ্ছে।

ঘান্ডিয়াল গ্রামের কৃষক রওশন আলী জানান, ৬ বিঘা জমিতে তিনি পাট চাষ করেছেন। এ বছর অন্য বছরের তুলনায় পাট অনেক লম্বা হয়েছে। ৪ বিঘা জমির পাট কেটে পাটকাঠি থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। বাকি পাট কাটা ও ধোয়ার কাজ চলছে। দাম ভালো পেলে কষ্ট পুষিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন জানান, ৭ বিঘা জমিতে তিনি পাট চাষ করেছেন। এ বছর পাটে আশানুরূপ ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভরা মৌসুমে ফড়িয়াদের সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পান না। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটের যে ফলন পাওয়া যাচ্ছে তাতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। রোপা আমন ধান রোপণ ও পাট কাটা একসঙ্গে শুরু হওয়ায় উপজেলা জুড়ে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি টাকা দিয়ে শ্রমিক মিলছে না। তবে কাঙ্ক্ষিত বাজার মূল্য পেলে পাট চাষিরা লাভবান হবেন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, পাটপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন পাটের আবাদ বেড়েছে। পাটকাঠিরও বহুমুখী ব্যবহার শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে রাসায়নিক সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এতে পাট চাষাবাদে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত