প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভোটদান নাগরিক অধিকার এবং একই সঙ্গে দেশের আমানত। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আমরা আমাদের দেশের পরবর্তী নেতৃত্বকে নির্বাচন করে থাকি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দেশের মালিক জনগণ আর সেই মালিকানা ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ভোট দান যতটা না উৎসবমুখর তার চেয়েও অধিক বেশি এটি আমাদের নাগরিক চাওয়া-পাওয়ার প্রাপ্তির জায়গা হয়ে ওঠে। এরই লক্ষ্যে ‘৫১ জাগরণ’ শীর্ষক বাংলাদেশের নারী ও যুবকদের নাগরিক সক্ষমতা, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য একটি সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের অন্তর্গত হাটহাজারী উপজেলায় ।
এটি মূলত জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট পরিচালিত এবং এহেড বাংলাদেশ এর আওতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রজেক্টটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি এর সহায়তায় পরিচালিত হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে মূলত আমরা ভলেন্টিয়াররা মানুষদের নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব বিষয় নিয়ে জনগণের ভাবনা তাদের প্রত্যাশা এবং সচেতনতা জাগ্রত করা হয় নিজ অধিকার বিষয়ে। এই উদ্যোগে ‘৫১ জাগরণ’ দ্বারা মূলত আমাদের নারী ভোটারদের একান্ন শতাংশকে বোঝানো হয়েছে এবং আমাদের লক্ষ্য এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সব নারীদের ভোট প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা যাতে তারা নাগরিক অধিকার বিষয়ের সচেতন হয়। একই সঙ্গে যুবকদের নাগরিক শিক্ষা নেতৃত্ব ও ভোট সচেতনতা বৃদ্ধি করা। প্রথমবার ভোটদাতা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভোটাধিকার ও ভোটে অংশগ্রহণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এই আয়োজনে আমরা যারা ভলেন্টিয়ার হিসাবে ছিলাম তারা মূলত মানুষদের বিশেষ করে শ্রমজীবী থেকে শিক্ষার্থী সবার কাজ থেকে নির্বাচন নিয়ে নানা প্রত্যাশা শুনেছি।
তাদের গণভোট সম্পর্কে অবগত করেছি। গণভোটে উল্লেখিত প্রস্তাবসমূহ তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে উৎসাহিত করেছি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ভোটদান বিষয়ে সচেতন করেছি তারা যেন নিজের ভোট নিজে দেন এবং যোগ্য ব্যক্তিকে আগামীর বাংলাদেশের জন্য নির্বাচন করেন ।
আমরা যখন মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলছিলাম দেখলাম, নির্বাচন নিয়ে তারা আগ্রহী এবং বিগত সময়ের তুলনায় এইবারে নাগরিকদের অংশগ্রহণের অত্যাধিক ইচ্ছা দেখা গিয়েছে। একইসঙ্গে তারা তাদের চাওয়া পাওয়া গুলা আমাদের বলছেন এবং দেখলাম যে, আমাদের কার্যক্রমের লিফলেট তারা আগ্রহ নিয়ে পড়ছেন এবং নিজে থেকে এটি দেখার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিষয়টা বেশ ইতিবাচক ছিল আমাদের জন্য এবং দেশের তরে কিছু করার জন্য দারুন উদ্দীপনা হিসেবে ছিল।
বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা সেভাবে নারীদের অংশগ্রহণ দেখিনি এবং তাদের নানা সমস্যার কারণে তারা রাজনৈতিক অধিকারের জায়গা থেকে দূরে ছিলেন। এবারে কিন্তু প্রার্থী নির্বাচনেও নারীদেরকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। জানার চেষ্টা করেছি নারীরা ভোট নিয়ে কি ভাবছেন? মূলত ৫১% নারী ভোটারের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বস্তরের নারীদের নাগরিক অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত হোক এই বিষয়টা আমাদের সর্বোচ্চ প্রাদানের জায়গা ছিল।
আমাদের উক্ত কার্যক্রমে আমরা পোস্টাল ভোট সম্পর্কে অবগত করেছি যাতে আমাদের দেশের প্রবাসী ভাইবোনেরা নিজেদের অধিকার ভোগ করতে পারেন এবং আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের প্রবাসী থেকেও ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ আছে এ বিষয়টা আমরা অবগত করেছি।
এছাড়াও সমাজে দায়িত্বশীল সৎ ও সক্রিয় নাগরিক গড়ে তোলা। উক্ত আয়োজনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য, মৌলিক নেতৃত্বের ধারণা, সামাজিক অংশগ্রহণ ও কমিউনিটি পর্যায়ে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করা হয়। মূলত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হোক এটাই আমাদের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল। এভাবেই তরুণরা বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সরকার ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
তৈয়বা খানম
শিক্ষার্থী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম