প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আগামী দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদের ওপর গণভোট। নির্বাচনি প্রচারণা জমে উঠেছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় মেতে উঠেছেন। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে বলা যায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বেড়ে চলেছে সংঘাত-সহিংসতা। এরইমধ্যে সারা দেশে অন্তত ১১৩টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন পাঁচজন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সূত্রমতে, এ সময়ে আহত হয়েছেন ৯৮১ জন। সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে। প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। এই হত্যাকাণ্ডে জনমনে নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সামনের দিনগুলোয় সহিংসতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সহিংসতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দল দুটোর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।
বলা বাহুল্য, নির্বাচনি সহিংসতা বাড়তে থাকলে তৃতীয় পক্ষ এর সুযোগ নিতে সচেষ্ট হবে। এ পরিস্থিতি নিশ্চয়ই কাম্য নয়। উল্লেখ করা যেতে পারে, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা নির্বাচন বানচাল করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তার এই রাষ্ট্রবিরোধী নির্দেশ প্রতিপালন করতে ভয়ংকর সব পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার আয়োজন চলছে বলে জানা যায়। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে ব্যাপারে সমগ্র নাগরিক সমাজকে সচেতন হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র কিংবা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, কোনো কিছুতেই কাউকে সফল হতে দেওয়া যাবে না। এটা ঠিক, নির্বাচনের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো নিজেদের ইশতেহার প্রচার করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করার প্রয়াস পেয়ে থাকে। এটা গণতান্ত্রিক রীতির মধ্যেই পড়ে। কিন্তু প্রতিপক্ষের সঙ্গে দা-কুড়াল সম্পর্ক কোনোভাবেই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে আঘাত করলে নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা রাজনীতিতে শালীন ভাষার প্রয়োগ দেখতে চাই। দ্বন্দ্ব যত তীব্রই হোক, এর প্রকাশ হতে হবে গণতান্ত্রিক। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা দেশ শাসন করা। এই মহৎ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা গেলেই শুধু অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি সম্মান দেখানো হবে। তা না হলে অভ্যুত্থানের গৌরব ম্লান হয়ে যেতে পারে। পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সহিংসতার পথ পরিহার করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব করে তুলবেন বলে আমরা আশাবাদী।