ঢাকা শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, বিএনপির স্থগিত

জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, বিএনপির স্থগিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন। তবে, নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটি, তথ্য গোপন, ঋণখেলাপি ও আইনগত জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে বহু প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নরসিংদীতে দুইটি আসনের ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল : প্রার্থীতা যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে নরসিংদী-২ পলাশে ৩ জন এবং নরসিংদী-৪ মনোহরদী-বেলাব সংসদীয় আসনে ১ জনসহ মোট চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থী হলেন- নরসিংদী-২ পলাশ আসনের মো. ইব্রাহীম, ইনসানিয়াত বিল্পব মনোননী প্রার্থী, ইঞ্জিনিয়ার মহসিন, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী, এ. এন. এম রফিকুল রফিকুল আলম সেলিম, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী। আর নরসিংদী-৪ (মনোহরদী- বেলাব) আসনে মনোনয়ন ফর্ম বাতিলকৃত প্রার্থী হলেন কাজী শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী। গত ২৯ ডিসেম্বর নরসিংদীর পলাশ আসনে ৮ জন এবং মনোহরদী-বেলাব আসনে ৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রার্থীতা যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েন ৪ জন প্রার্থী। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নরসিংদীর পাঁচটি আসনের মধ্যে ২টি আসনে কার্যবিধি অনুযায়ী গতকাল প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আবেদনপত্রের শর্তপূরণ না হওয়ায় দুই আসনে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তারা আপিল কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।

মুন্সীগঞ্জে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল : মুন্সীগঞ্জ-১ ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন যাছাই-বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। এ সময় তিনি মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন এবং বাকি প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিন আলী ও মীর সরাফত আলীর মনোনয়নপত্রে দাখিলকৃত মাট ভোটারের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন-সংবলিত স্বাক্ষরে প্রবাসী ও মৃত ভোটারের তথ্য সংবলিত ভোটার তালিকা সংযুক্ত থাকায় তাদের দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া বাকি ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটানিং কর্মকর্তা। অপরদিকে, মুন্সীগঞ্জের (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে এই আসনের সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণ করা হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পটুয়াখালী-৩ আসনের নুর ও হাসান মামুনের মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর : পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। জেলার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী ঘোষণা করেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের মনোনয়ন বৈধ। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন, জামায়াতে ইসলামীর মুহা. শাহ আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী, গণঅধিকার পরিষদের মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম এবং খেলাফত মজলিশের মো. দেলোয়ার হোসেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু ও এস. এম. ফজলুল হকের মনোনয়ন তথ্যের ঘাটতির কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

খুলনা-১ আসনে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। যাচাই বাছাইয়ের ২য় দিনে খুলনা ১ আসনে দাখিল হওয়া ১৩ টি মনোনয়ন পত্র যাচাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার। যাচাই বাছাই শেষে বৈধ ও অবৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন খুলনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খন্দকার। এ সময় স্বাক্ষর জালিয়াতি ও প্রস্তাবকারী অন্য এলাকার ভোটার হওয়ার অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান, সতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার ও অচিন্ত কুমার মন্ডলের মনোনয়ন বাতিল ঘোষনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ যাচাই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি, জামায়াত সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা। যাচাই বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির সুনীল শুভ রায়, ইসলামী ফ্রন্টের মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, জামায়াত ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু সাঈদ, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বিএনপির আমীর এজাজ খান, বাংলাদেশ মাইনরটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম ও বাংলাদেশের সম অধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল।

যশোরে জামায়াত-বিএনপিসহ ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল : সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে জামায়াতসহ সাত প্রার্থী মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আরও চার প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান এই সিদ্ধান্ত দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। যাচাই বাছাইয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এই আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে তথ্যের ঘাটতি থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টি মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদেরকে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। যশোর-১ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ আজীজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমান।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে চার প্রার্থীর। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াত ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পাড়ায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়েছে। এই আসনে বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী শামসুল হকের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর ও টিআইএন তথ্য ও জাতীয় পার্টি মনোনীত ফিরোজ শাহ’র টিআইএন ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। যশোর-২ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ’র ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ৪ জানুয়ারির মধ্যে ৬টি আসনের যাচাই বাছাই সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত (ক্রেডিট কার্ড) জটিলতায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি প্রার্থীতা ফিরে পেতে নিয়মানুযায়ী আপিলের সুযোগ পাবেন।

মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ জানিয়েছেন, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বিষয়টি অনেক আগের। তবে ইতোমধ্যে এর সমাধান হয়েছে। তাই প্রাথমিক বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও তিনি আপিল করবেন। এবং যেহেতু সমস্যার সমাধান হয়েছে তিনি মনোনয়ন ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্যে গরমিল খুঁজে পেয়েছেন কর্মকর্তারা। এছাড়া তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির (স্ত্রী) তথ্যেও গরমিল রয়েছে। এগুলো সংশোধন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিলে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হতে পারে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার। রংপুর-১ আসনের দাখিল করা নয়টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে এদিন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান। বাকি ৮টি মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, গণঅধিকার পরিষদের হানিফ খান সজীব, নাগরিক পার্টির আল মামুন, ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ আনাস, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মোস্তফা বাবু, বাসদ মার্কসবাদীর আহসানুল আরেফিন এবং খেলাফত মজলিসের মমিনুর রহমান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান জানান, আটটি মনোয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদিকে, মনোনয়নপত্র বাতিল করায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রে বড় ধরনের ভুল না থাকলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে না। এভাবে অনেকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমার সামান্য ত্রুটি থাকার পরেও আমার পত্রটি বাতিল করে আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে।’ তিনি জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবেন। তিনি ন্যায্য বিচার পাবেন। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত