
ডাকসু, চাকসু, জাকসু ও রাকসুতে বিজয়ের ধারাবাহিকতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদেও (জকসু) ভূমিধস জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল বুধবার রাত ১০টায় ৩৬টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে জকসুর ২১টি পদের মধ্যে ১৭টিতে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, শিবির সমর্থিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৪ হাজার ৮৮৩ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল-ছাত্রঅধিকার সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব ৩ হাজার ৯২৩ ভোট পান। মোট ৩৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ কেন্দ্রের ফলাফলে রিয়াজুল ৯৬০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) শীর্ষ তিন পদ এবং অধিকাংশ সম্পাদকীয় পদে শিবির সমর্থিত প্যানেল এগিয়ে ছিলেন। জিএস পদে ৩৪৮৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন শিবির প্যানেলের আরিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার প্যানেলের খাদিজাতুল কুবরা ১৩৭৯ ভোট পান। আর এজিএস পদে ৩১০৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন শিবির প্যানেলের মাসুদ রানা। এ পদে ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার পদের তানজীল পান ২৬৭৭ ভোট।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নেয়। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির- সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট- সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি- সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। এছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে ৮ জন লড়েন।
নির্বাচন কমিশন জানায়, গত মঙ্গলবার জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। সেখানে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়ে। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদেও ভোট হয়েছে। হল সংসদের মোট ভোটার ছিলেন ১২৪২ জন। সেখানে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দুই দশক পর গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং একটি হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট হয় শান্তিপূর্ণভাবে। বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্সগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নিয়ে আসা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছয়টি ওএমআর (অপটিকাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনে সেখানে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হয়। কিন্তু গণনার তথ্যে গড়মিল দেখা দেওয়ায় মাঝে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকে। পরে গভীর রাতে আবার শুরু হয় গণনার কাজ। প্রথম চার বিভাগের ফল প্রকাশ করতে করতে সকাল হয়ে যায়। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর হাতে ভোট গণনা শুরু হয়। এরপর ওএমআর মেশিনে গণননার সঠিকতা যাচাই করে বাকি ভোট পুরোদমে গোনা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংসদে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন এবং হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সিসিটিভি কভারেজের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র মনিটর করা হয়।
জকসু নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমে ৩০০ ভোট হাতে গণনা করা হয়। এরপর একই ভোট দুটি ওএমআর মেশিনে গণনা করে মিলিয়ে দেখা হয়। যেই মেশিনের ফল হাতে গণনার সঙ্গে মিলে, সেই মেশিনে পরবর্তী ভোট গণনা হয়। ভোট হাতে গণনার পর ওএমআর মেশিন যাচাই করা হয়।