
কমিশন বৃদ্ধি, বিইআরসির একতরফা দাম ঘোষণা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। দাবি মেনে নেওয়া না হলে আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খানসহ অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ, অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশিসহ অন্যরা। সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে এলপি গ্যাসের চরম সংকটময় সময় চলছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়া নতুন করে দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে পরিবেশক ও ভোক্তাদের চরম বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলেছে। কেন সংকট দূরীকরণের উপায় বের করা হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করেছে। বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করা হচ্ছে; যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। দেশের বেশিরভাগ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সব কোম্পানির পরিবেশকরা দেউলিয়ার পথে। এলপি গ্যাস বহনকারী সব গাড়ির পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, ভোক্তা অধিকার কর্তৃক চলামান অভিযান বন্ধ করা, পরিবেশকদের কমিশন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা, খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ করাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে।
জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে এলপিজি ভয়াবহ সংকটের পাওয়া যাচ্ছে, আর সেই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী বাড়তি টাকা আয় করছেন।
জানুয়ারিতে বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করার পর গত কয়েকদিন ধরে ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। এলপি গ্যাসের দামে কারসাজির দায় খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চাপিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। জড়িত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরাল আহ্বান জানিয়েছে তারা।