ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

এককভাবে ভোট করবে ইসলামী আন্দোলন

এককভাবে ভোট করবে ইসলামী আন্দোলন

নানা নাটকীয়তার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবেই ভোট করবে। তাদের হাতপাখার প্রার্থী থাকবে ২৬৮টি আসনে। গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে দলটি জানিয়েছে, তারা ২৬৮ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

আগামী মাসের ১২ তারিখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট। নির্বাচন কেন্দ্র করে আগেই জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো এক হয়ে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন এবং গণভোট আলাদা দিনে করার দাবিতে একজোট হয়ে যুগপৎ আন্দোলনে নেমেছিল। এরপর তারা একজোট হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয়। কিন্তু আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের টানাপড়েন দেখা দেয়। জামায়াত ৪০টি আসন ছাড় দিতে চাইলেও ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন দাবি করে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে দরকষাকষির পর গত বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলনকে না পেয়ে জামায়াতসহ ১০টি দলের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেন। সেখানে ৪৭ আসন ফাঁকা রেখে ইসলামী আন্দোলনকে জোট বা নির্বাচনী এই মোর্চায় রাখার আশা রেখে বক্তব্য দিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কিন্তু গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে আলাদাভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সমঝোতার পরদিন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান ঢাকার পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের সিদ্ধান্ত জানান। গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ২৭০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা কাজ করছেন জানিয়ে আতাউর রহমান বলেন, এসব আসনে দলের প্রার্থীরা আলাদাভাবে নির্বাচন করবেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, আমরা এ দেশের ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে কিছুতেই প্রতারণা করতে পারি না। আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করে আসছি। আমরা এ থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। এজন্য আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে যেখানে আমরাও ছিলাম, সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে আসন বণ্টন হয়েছে। সেখানে আমাদের দীর্ঘদিনের পথ চলা, ৫ আগস্ট পরবর্তী সারা দেশে আমরা ইসলামপন্থি শক্তি একসঙ্গে করার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করেছিলাম। আমরা দেখেছি শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শঙ্কা থেকে আমরা চিন্তা করলাম, আমাদের ইসলামের পক্ষের একটি বাক্সকে আমাদের হেফাজত করতে হবে।

প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবে না : এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যাচ্ছে না বলে ঘোষণা দেন গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা জানি সামনে আমাদের পথচলা হয়ত মসৃণ নাও হতে পারে। কারণ আমরা ক্ষমতার রাজনীতি সেভাবে করি না। আমাদের মূল লক্ষ্য ইসলাম। ইসলামকে আমরা আগে রাখি। আমরা নীতি-আদর্শের রাজনীতি করি। সেখানে আমরা দেখছি, নীতি-আদর্শের প্রশ্নে, রাজনৈতিক প্রশ্নে, ইনসাফের প্রশ্নে আমরা বৈরিতার শিকার হয়েছি। সেজন্য আমরা আজ আপনাদের সামনে ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আপিলে দুজনের বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী এখন পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন। আমরা তাদের নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি, তারা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একজনও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। জামায়াত জোট নিয়ে তিনি বলেন, এখানে জামায়াতে ইসলামী একটি বড় শক্তি ছিল। অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের শক্তি-সামর্থ্য অনেক বেশি। কিন্তু আমরা আদর্শিকভাবে, নৈতিকভাবে কারও চেয়ে দুর্বল নই।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একজন সম্মানিত নারী, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, জামায়াতের আমির শরিয়া প্রতিষ্ঠা, শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না। এই ওয়াদা তিনি করেছেন। এজন্য আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। এই বিষয়টা যখন আমরা জানতে পারলাম তখন আমরা স্পষ্ট হয়ে গেলাম, আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে চলছি সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। কারণ, আজ যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মতো একটা পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এখন যারা প্রধান শক্তি তারাই যদি ইসলামের সমান আদর্শ থেকে ভিন্ন দিকে চলে যায়, যদি ইসলামী আইনের প্রতি তাদের আস্থা না থাকে, তাহলে আমরা যে কর্মী, সমর্থক সারা দেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

গাজী আতাউর বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ইসলামপন্থি শক্তি একত্র করার জন্য যে চেষ্টা করেছিল ইসলামী আন্দোলন, শেষ পর্যায়ে এসে সে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নীতি, আদর্শ, ইনসাফের প্রশ্নে তাদের দল বৈরিতার শিকার হয়েছে।

৩০০ আসনের মধ্যে বাকি ৩২টি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতি-আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ‘১১ দল’ এ ইসলামী আন্দোলনও ছিল। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে তাদের সঙ্গে জামায়াতের টানাপোড়েন কয়েক দিন ধরে আলোচনায়ছিল। টানাপোড়েন, দেনদরবার ও শেষ মুহূর্তে টানা বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল আসন সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলন করে এই নির্বাচনি মোর্চার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি ২৫৩ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর আজ সেই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানাল ইসলামী আন্দোলন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত