
তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রতিবাদে কুমিল্লার দেবিদ্বারে মোমবাতি বিতরণ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে মোমবাতি বিতরণের মাধ্যমে তিনি এই প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
মোমবাতি বিতরণকালে হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি সরকার স্বীকার করছে না। সংসদে বারবার বলা হচ্ছে- দেশে তেলের কোনো অভাব নেই, অথচ বাস্তবে মানুষ সারাদিন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সংসদে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম কোনো সমস্যা আছে কিনা। সরকার সমস্যা স্বীকার করে না, কিন্তু মানুষ অন্ধকারে থাকছে। তাই এর প্রতিবাদে আমরা জনগণের হাতে মোমবাতি তুলে দিচ্ছি।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরমে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি এখন চরমে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যের এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান এবং নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অন্যদিকে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের মধ্যে সিলেটে আজ শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধের নোটিশ দিয়েছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। বিউবো’র বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। বিদ্যুতের বিতরণ লাইন ও ট্রান্সফরমার মেরামত এবং সংরক্ষণ কাজের জন্য বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিউবোর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১ কেভি সোবহানীঘাট ফিডারের চালিবন্দর, কাস্টঘর, সোবানীঘাট, বিশ্বরোড, জেলরোড, বন্দররোড ও আশপাশ এলাকা; ১১ কেভি কালীঘাট ফিডারের আওতাধীন আমজাদ আলী রোড, কালীঘাট, ছড়ারপার, মাছিমপুর, মহাজনপট্রি, হর্কাস মার্কেট, লালদীঘিরপাড়, ডাক বাংলা রোড; ১কেভি বোরহান উদ্দিন ফিডারের বুরহান উদ্দিন মাজার, শাপলাবাগ, কুশিঘাট, মেন্দিবাগ, মিরাপাড়া, নোওয়াগাঁও, সাদাটিকর; ১১ কেভি মুক্তিরচক ফিডারের মিরেরচক, মুক্তিরচক মুরাদপুর, টুলটিকর, পীরেরচক ও আশপাশ এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাজ শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সঙ্গে সঙ্গেই চালু করা হবে এবং গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য বিউবো’র পক্ষ থেকে দুঃখও প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে, সিলেটে শুক্রবার ছুটির দিনেও লোডশেডিং হয়েছে। নগরীর সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্দা মুহিবুর রহমান জানান, আজ দিনের বেলা কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যায়। মাগরিবের নামাজের পর আরেক দফা বিদ্যুৎ চলে যায়। রাত পৌনে ৮টায় বিদ্যুৎ ফের আসে। তবে তার আগে বিদ্যুৎহীন ছিল নগরীর সুবিদবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা। বিউবো সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় সিলেটে প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে।