ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যুদ্ধের মধ্যেও চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করছে

যুদ্ধের মধ্যেও চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করছে

ইরান যুদ্ধে এশিয়ার অনেক দেশের অর্থনীতি যখন জ্বালানিসংকটে ধুঁকছে তখন চীনের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বা প্রথম প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। অথচ অর্থনীতিবিদেরা আগে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার মানে, পূর্বাভাসের চেয়ে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। ফলে এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানিসংকটে পড়েছে।

চীনের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানটি এমন সময়ে, যখন বেইজিং গত মাসেই তাদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। যা কিনা ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে কম লক্ষ্যমাত্রা। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে সাড়ে চার শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর গত প্রান্তিকে উৎপাদন খাতের কল্যাণে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। তবে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় চীনের অর্থনীতি এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কাইল চ্যান বলেছেন, গাড়ি ও অন্যান্য রপ্তানি এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেশি সহায়তা করেছে। তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের পূর্ণ প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। বাণিজ্য বিঘেœর কারণে আগামী প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। গত মার্চে চীনের নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আওতায় জিডিপির লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য ঘোষণা করা হয়। বেইজিং উচ্চপ্রযুক্তি খাত, উদ্ভাবন ও অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়াতে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশটির শাসক দল চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তার কারণ দেশটি দুর্বল ভোগ, জনসংখ্যা হ্রাস ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসনসংকটসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে চীনকে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট ও বাণিজ্যিক অস্থিরতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের পাল্টাশুল্কও রয়েছে। বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা আছে। যদিও মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, জুলাইয়ের শুরুতে এই শুল্ক আবার আগের উচ্চ স্তরে ফিরে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মে মাসে চীনে বৈঠক করবেন। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত মার্চ মাসের পণ্য রপ্তানি তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় পণ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেশ কমেছে। গত মাসে চীনের রপ্তানি আড়াই শতাংশ কমেছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত