
সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে যমুনা অভিমুখী মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। পরে লাঠিচার্জ করে, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এতে অন্তত ছয়জন সরকারি কর্মচারী আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। আহতরা হলেন- সরকারি কর্মচারী আব্দুল হান্নান (৪৫), জয় দাস (৩৫), আব্দুল আউয়াল (৪০), তন্ময় (৩২), জাকারিয়া (৬০) ও মো. সিকান্দার (৪০)।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী মো. কালাম হাওলাদার ও মো. মাসুদ জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে একটি মিছিল কর্মসূচি ছিল। মিছিলটি শাহবাগ অতিক্রম করার আগ মুহূর্তে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তারা আরও জানান, পুলিশের ওই অভিযানে তাদের ছয়জন সহকর্মী আহত হন। আহতদের সবার কোমরের নিচের অংশে ব্যথা রয়েছে। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, দুপুরের দিকে শাহবাগ থেকে আহত অবস্থায় ছয়জন সরকারি কর্মচারীকে হাসপাতালে জরুরিভাবে আনা হয়েছিল। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসক।
সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ-বলপ্রয়োগ, জামায়াতের উদ্বেগ : সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি চাকরিজীবীরা সকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হলে বেলা সোয়া ১১টার পর পুলিশ তাদের ওপর দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে। এতে বহু সরকারি কর্মচারী আহত হন। এই ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায় করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। যৌক্তিক দাবি উত্থাপনের জবাবে বলপ্রয়োগের ঘটনা কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাদের ন্যায্য দাবিকে সম্মান জানিয়ে দ্রুত তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারি কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের পক্ষে। তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো। একইসঙ্গে তিনি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে অবিলম্বে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সরকারি কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।