
আধুনিক আকাশপথের যুদ্ধের হুমকি থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিলম্বে অত্যাধুনিক বিদেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় এবং নিজস্ব প্রযুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালুর দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এই আইনি নোটিশ পাঠান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান কর্মসূচি কর্মকর্তা (পিএসও) এবং বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার কমান্ড্যান্ট বরাবর এই নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জাতীয় বাজেটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের একটি বিশাল অংশ দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়। তাই দেশের সাধারণ জনগণের এই প্রশ্ন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে যে, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও সামরিক বাহিনী বিদেশি শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিমান হামলা ও ড্রোন হামলা থেকে দেশের আকাশসীমা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণকে রক্ষা করতে সক্ষম কি না।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল ও ধরন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত স্থলযুদ্ধের চেয়ে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে আকাশপথে আক্রমণ অনেক বেশি তীব্র হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমানে একটি কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।
এ অবস্থায় কোনো বিদেশি রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হামলা হলে দেশের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনও চরম হুমকিতে পড়বে।
নোটিশে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা, প্রতিবেশী মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্রতিবেশী দেশ ভারত এরইমধ্যে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে এবং স্থাপন করেছে। আঞ্চলিক ভারসাম্য ও সামরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখতে বাংলাদেশেরও অবিলম্বে মার্কিন প্যাট্রিয়ট অথবা সমমানের উন্নত চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানো এবং ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে দেশীয় গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা কৌশলগতভাবে অপরিহার্য।
সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, নাগরিকদের জীবনের অধিকার এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। দেশের আকাশসীমা প্রতিরক্ষাহীন রাখা সরকারের সাংবিধানিক কর্তব্যের চরম অবহেলা এবং জনগণের জীবনের মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে অত্যাধুনিক বিদেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় এবং নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রয়োজনীয় তহবিল ও অবকাঠামো বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করতে এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।