
সাতক্ষীরার দেবহাটায় অমৌসুমে তরমুজ চাষ করে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। দেবহাটা উপজেলায় তরমুজের চাষ করে একদিকে যেমন বেকার ও কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন অন্যদিকে নতুন এই কৃষিপণ্য চাষে নারীরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ঘেরের জমির পাড়ে মাচান তৈরি করে এই তরমুজের চাষ করা হচ্ছে। যার কারণে বাড়তি কোনো জমিরও প্রয়োজন পড়ছে না। দেবহাটা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেবহাটা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে গত ৪/৫ বছর ধরে এই অমৌসুমে তরমুজ ও সবজির চাষ হচ্ছে। কৃষক ও বেকার যুবকদের বিনামূল্যে অফসিজন তরমুজের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া তরমুজের মাচান তৈরি ও প্রশিক্ষন প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এছাড়া কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্বাবধানে এবছর মোট ৩৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। গত বছর যেটা ছিল ৩০ হেক্টর। মোট চারটি জাতের বীজ সেগুলো হলো তৃপ্তি, ব্লাক বেবি, সুগারকুইন ও বাংলালিংক নামের বীজ প্রদান করা হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ গ্রাম থেকে ১২০ গ্রাম বীজ রোপণ করা যায়। এই অফসিজন তরমুজ প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনার পাশাপাশি তাদের ঘেরের নিজস্ব জমিতে এই তরমুজের চাষে ঝুঁকছে। এ বছর আশানুরূপ ফলন ও লাভজনক হওয়ায় আগামীতে বেশি করে এই তরমুজ চাষে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল টিকেট গ্রামের কৃষক কৃঞ্চ চন্দ্র জানান, সে বেকার থাকায় ঘেরের পাশাপাশি দেবহাটা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ তাকে এই অফসিজন তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করে। মোস্তাক আহম্মেদের পরামর্শে সে তার নিজস্ব জমিতে তরমুজের চাষ করেছে। এখানে পানি লোনা হওয়ার কারণে কোনো সবজি উৎপাদন হতো না। কিন্তু তরমুজ চাষ করে এরইমধ্যে লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করেছে এবং আরও ৫০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হবে বলে কৃঞ্চ জানান। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ জানান, দেবহাটা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তিনি সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। এই অফসিজন তরমুজ চাষের পদ্ধতি ও বিভিন্ন নিয়ম সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করেছেন। দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ শওকত ওসমান দেবহাটা উপজেলায় এই তরমুজের আশানুরূপ ফলন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই চাষে মহিলারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আগামীতে আরও বড় আকারে এই তরমুজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। তিনি বলেন, চলতি বছরে ৩৭ হেক্টর জমিতে এই অপসিজন তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। যার থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা অর্জন করতে পারছেন। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, এই মৌসুমে প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে অপসিজন তরমুজের বীজ, সার ও সব প্রকারের সহযোগিতা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে।