ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হিলি স্থলবন্দরে উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজ শুরু

হিলি স্থলবন্দরে উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজ শুরু

দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি কারক অ্যাসোয়েশনের সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী গতকাল রোববার এই তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দিনাজপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, দীর্ঘদিন অবহেলিত হিলি স্থলবন্দর উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান করতে তার উদ্যোগে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, হিলি স্থলবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উভয় পাশে হিলি টু বিরামপুর এবং হিলি টু ঘোড়াঘাট ৪ লেন রাস্তা নির্মাণ, মজবুত ও টেকসই পদ্ধতিতে কাজের অগ্রগতি শুরু হয়েছে। এরমধ্য রাস্তা প্রশস্ত করনের কাজে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিকরণ শাখার মাধ্যমে অধিকরণ এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাস্তার পাশে যাদের ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তারা সরকারি বিধি অনুযায়ী তাদের ভূমির ক্ষতি পূরণসহ অধিক মূল্য পাবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এই মেগা প্রজেক্ট এর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। তিনি নিজেই এই প্রকল্পের কাজ অগ্রগতির বিষয় সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন।

তিনি বলেন, হিলি-টু বিরামপুর রাস্তার কয়েকটি অংশে পিএমপি, ওয়ারিং কোর্স ও রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। শুধু এই রাস্তা মজবুত ও টেকসই পদ্ধতিতে নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে, ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর হিলি স্থলবন্দর-ডুগডুগি ঘোড়াঘাট জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রথম সংশোধনের অনুমোদন চেয়েছে। এতে ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৮৭ দশমিক ৮৮ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কাজ শেষ করার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিগত সময়ে প্রকল্পটি মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।

সূত্রটি জানায়, এই মহাসড়কটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলিকে গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-বিরামপুর-ফুলবাড়ী দিনাজপুর-আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জাতীয় মহাসড়কের মানে উন্নীত করা হলে, হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজধানীতে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, কমে আসবে সময় ও খরচ।

হিলি স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলা হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এই স্থলবন্দর পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের সঙ্গে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন চাল, গম, ভুট্টা, চিনি, পাথর, সার এবং শিল্পের কাঁচামালসহ নানা পণ্য এ বন্দর দিয়ে আদান-প্রদান হয়ে থাকে। যা রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থানের জন্য বড় ভূমিকা রাখেন।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা, সরু পেভমেন্ট ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই পথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলা-বদ্ধতা ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি, ক্ষতি-পূরণ, শক্ত পেভমেন্ট নির্মাণ এবং ৫৭টি আরসিসি কালভার্ট পুনর্নির্মাণ বা প্রশস্ত করার অতিরিক্ত খরচের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত