ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কারখানার জন্য জরুরি সহায়তা কামনা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কারখানার জন্য জরুরি সহায়তা কামনা

বন্যা ও টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন দেশের শীর্ষ চার ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

গত রোববার নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তারা দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট চার্জ মওকুফসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি, শিল্পায়ন, রপ্তানি উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। তবে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

তারা উল্লেখ করেন, বন্দরে আটকে থাকা আমদানি করা তুলা, সুতা, কাপড়, শিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক, প্যাকেজিং সামগ্রী ও খাদ্যপণ্যসহ আর্দ্রতাণ্ডসংবেদনশীল বিভিন্ন পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন প্রস্তুত পণ্যের জাহাজীকরণ বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং ব্যয়বহুল এয়ার শিপমেন্টের ঝুঁকি বাড়ছে। চিঠিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পানি প্রবেশ করে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত যেকোনো দাবি অস্বীকার এবং এ বিষয়ে দায় গ্রহণ না করার অবস্থান জানায়, যা ব্যবসায়ী মহলে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা কিংবা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে ক্ষতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিত করা উচিত।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত