ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঠাকুরগাঁওয়ে মিলছে না পেট্রোল-অকটেন, জনভোগান্তি চরমে

ঠাকুরগাঁওয়ে মিলছে না পেট্রোল-অকটেন, জনভোগান্তি চরমে

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ‘ফুয়েল কার্ড’ সংগ্রহ করেও কাঙ্ক্ষিত পেট্রোল বা অকটেন পাচ্ছেন না মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। তেল না পেয়ে অনেক চালক মাঝপথেই যানবাহন ফেলে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে ফিরছেন।

জেলাজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিরাজ করছে চরম বিশৃঙ্খলা, যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই জেলার ৩৭টি ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য হাহাকার চলছে।

মথুরাপুর হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম জানান, ছেলের জন্য তেল সংগ্রহ করতে ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একটি পাম্পে অপেক্ষা করেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি পরিচিত এক বাড়িতে রেখে অটোরিকশায় করে কর্মস্থলে রওনা দেন। তার মতো শত শত চালকের একই দশা।

এদিকে তেলের সংকটে ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। গত তিন দিন আগে সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হন। তবে বিক্ষুব্ধ জনতা তেল না পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকেও অবরুদ্ধ করে রাখে।

জ্বালানি সংকটের এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে রাণীশংকৈল উপজেলায়। তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় ৬ জন মোটরসাইকেল চালক তাদের বাহনগুলো একটি বিদ্যুৎচালিত তিন চাকার গাড়ির (ইজিভিক)-এর সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে বাড়ি ফেরেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্কুল শিক্ষক সুজন আলী জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও তারা তেল পাননি। নিরুপায় হয়ে এভাবেই গন্তব্যে ফিরতে হয়েছে তাদের।

ঠাকুরগাঁও ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাক আলী জানান, জেলায় প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ লিটার পেট্রোল ও ৫০ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে অত্যন্ত সামান্য। এর ওপর রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করায় সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আকাশচুম্বী হয়েছে।

পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদাপত্র পাঠিয়েও সময়মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই সংকট দ্রুত কেটে যাবে।

পেট্রোল-অকটেন,ঠাকুরগাঁও,জনভোগান্তি চরমে
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত