ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুরে সবুজ ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

রংপুরে সবুজ ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

রংপুরে সবুজ ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং একটি ন্যায্য ও দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ডপস, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রংপুর, কসটাল লাইভলিহুড এন্ড ইনভাইরনমেন্ট একশন নেটওয়ার্ক (নিএলইএএন), গ্যাস বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি এন্ড ডিভলোপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)-এর যৌথ আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুর ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যান এস এম পিয়াল ও উজ্জ্বল চক্রবর্ত্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে দূরে হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের অস্থিতিশীলতা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য বিঘ্ন বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ওপর সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সরবরাহ অনিশ্চয়তা এবং দাম বৃদ্ধি ইতোমধ্যেই জাতীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। অনিয়মিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ শিল্প উৎপাদন ব্যাহত করছে, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী খাতে। কৃষিতে ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, আর পরিবহন খাতে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ফলে ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মূল্যস্ফীতি চাপ তৈরি করছে। এটি কোনো সাময়িক সংকট নয়; বরং আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ক্রমবর্ধমান জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার একটি কাঠামোগত ঝুঁকি।

তারা বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকটের সময় এই নির্ভরতা বারবার অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত আনতে পারে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, সৌর সেচ ব্যবস্থা এবং বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাশ্রয় নিশ্চিত করতে পারে।

নীতিগত সুপারিশ হিসেবে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌর প্রকল্প সম্প্রসারণ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। পাশাপাশি জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার হ্রাসের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, এই রূপান্তর অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য হতে হবে। একটি ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর যুবক, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেবে।

সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তিতে আয়োজকরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন বর্তমান যুদ্ধ-উদ্ভূত জ্বালানি সংকটকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে একটি স্থিতিশীল, টেকসই ও জনকেন্দ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এ সময় ডপস, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রংপুর, কসটাল লাইভলিহুড এন্ড এনভায়রনমেন্ট একশন নেটওয়ার্ক গ্যাস বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)-এর নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর,জ্বালানি,সংবাদ সম্মেলন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত