
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস রাজনীতি। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বিলম্ব এবং নেতাদের বিভক্তি নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজ সংগঠনের কর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
ছাত্রলীগের এই আকস্মিক ‘পোস্টার পলিটিক্স’-এর পেছনে ছাত্রদলেরই অভ্যন্তরীণ কারো হাত থাকতে পারে বলে তার বক্তব্যে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান তার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “কমিটি লাগলে, কমিটি নে। পদ লাগলে পদ নে। কিন্তু ২/৩ টা প্যানা (পোস্টারের মতো) লাগিয়ে ছাত্রলীগ সাজলি কেন? (দলীয় আদর্শ জলাঞ্জলি কেন?) নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম ফায়সালাকারী।”
তার এই বক্তব্যে ক্যাম্পাসে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতা-কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, পদ-পদবি পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় বা বর্তমান নেতৃত্বকে বিতর্কিত করতেই কেউ নিষিদ্ধ সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে এই কাজ করে থাকতে পারে।
গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ-এর খুঁটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত পোস্টার দেখা যায়। ৫ আগস্টের পর যেখানে ছাত্রলীগ পুরোপুরি অদৃশ্য, সেখানে হঠাৎ এই পোস্টার সাঁটানোর ঘটনাকে ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা ‘সাংগঠনিক শূন্যতা’ ও ‘কমিটি গঠনে বিলম্ব’-এর ফল হিসেবে দেখছেন।
এর আগে সদস্য মামুন সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ ফরাজী, হাবিব আহমেদ ও মো. মহিউদ্দিন বর্তমান কমিটির চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, ২০২১ সালের পুরোনো কমিটি এবং নতুন কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও টিম লিডার শাকির আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শক্তিশালী কমিটি গঠন করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করা হবে।
তবে বর্তমান আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধানের এই স্ট্যাটাস এটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এই পোস্টারকাণ্ডের পেছনে কেবল ছাত্রলীগের দুঃসাহস নয়, বরং ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোনো সমীকরণও কাজ করে থাকতে পারে।