ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য রক্ষায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফল উৎসব

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য রক্ষায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফল উৎসব

দেশীয় ফলের পরিচিতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ফলজ ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দেশীয় ফল উৎসব-২০২৬’। বাংলা সমিতি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে ক্যাম্পাসে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের তৃতীয় তলায় ‘তরুণের সাধনা সম্মেলন কক্ষে’ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, দেশীয় ফল শুধু খাদ্যের উপাদান নয়, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। একসময় শিশুরা সহজেই অনেক দেশীয় ফলের নাম বলতে পারলেও এখন সেই পরিচিতি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘ফল উৎসব শুধু ফল খাওয়ার আয়োজন নয়, দেশীয় ফল সংরক্ষণেরও একটি বার্তা। সেই লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি প্রায় ৮০ প্রজাতির দেশীয় ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফল দিয়েই এ উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদুল বারী।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা-প্রিন্স) বলেন, হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফলের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করা, ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভাষা-সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উৎসব দেশীয় ফলজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবে আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেয়ারা, ডাব, লটকন, আমড়া, কামরাঙ্গা, খেজুর, ডালিম, ড্রাগন ফলসহ ২০টিরও বেশি দেশীয় ও মৌসুমি ফলের প্রদর্শনী ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসবটি উন্মুক্ত ছিল।

ফল উৎসব,নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়,ঐতিহ্য রক্ষা,দেশীয় ফল
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত