
তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্বকে এর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে ইরানের সামরিক কমান্ড। বুধবার অবরুদ্ধ পারস্য উপসাগরে আরও তিনটি জাহাজে হামলার পর তেহরান এই হুঁশিয়ারি দিলো।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই বিশ্বের তেলের বাজার অস্থির হয়ে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় দিন দিন বাড়ছে তেলের দাম। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে আগ্রাসন চালানো দেশগুলো ও তাদের সমর্থকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর মাধ্যমে তেহরান প্রমাণ করেছে যে, তারা এখনও পাল্টাহামলা চালানো এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করার সক্ষমতা রাখে।
হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ইরান সরাসরি তেল সরবরাহ বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে। তেহরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে এক লিটার তেলও যেতে দেয়া হবে না। এছাড়া তাদের মিত্র দেশগুলোর কোনো জাহাজ বা ট্যাঙ্কার এই পথে চলাচল করলে সেটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করে হামলা চালানো হবে।
এর আগে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থার ৩২টি সদস্য দেশ একমত হয়ে জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আইইএ-র ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জরুরি হস্তক্ষেপ।
বিশ্বের প্রভাবশালী বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আইইএ-র এই রেকর্ড তেল ছাড় সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান নয়। কারণ প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হতো, তা মজুত ভাণ্ডারের মাধ্যমে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম লাগামছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবা/এসআর/২৬