ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

তীব্র শীতে বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম

* দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় এবং তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চারাগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে গেছে, অনেক জায়গায় চারার ডগা শুকিয়ে হলদেটে হয়ে যাচ্ছে
তীব্র শীতে বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম

কুমিল্লার চান্দিনায় গত কয়েকদিনের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বীজতলার চারা লালচে হয়ে মরে যাওয়া এবং ‘কোল্ড ইনজুরি’ বা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় চাষিদের চোখে এখন ঘুম নেই। নির্ধারিত সময়ে জমিতে চারা রোপণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় এবং তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চারাগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে গেছে, অনেক জায়গায় চারার ডগা শুকিয়ে হলদেটে হয়ে যাচ্ছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বোরো বীজতলা রক্ষায় বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শৈত্যপ্রবাহের এই সময়ে চারা টিকিয়ে রাখতে হলে কৃষকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে চারাকে কুয়াশা ও শীতের হাত থেকে বাঁচাতে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

সূর্যাস্ত থেকে পরদিন সূর্য না ওঠা পর্যন্ত এই পলিথিন ছাউনি বজায় রাখলে চারার তাপমাত্রা ঠিক থাকে। এছাড়া পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বীজতলায় ৩-৪ সেন্টিমিটার পানি দিয়ে রাখতে হবে এবং পরদিন সকালে সেই পানি বের করে দিয়ে পুনরায় নতুন পানি দিতে হবে, যাতে জমে থাকা ঠান্ডায় চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

পাশাপাশি চারা পচন রোধে প্রতিদিন সকালে রশি বা লাঠির সাহায্যে চারার ওপর জমে থাকা শিশির বা ঘন কুয়াশা আলতো করে ঝরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যদি চারা এরইমধ্যে লালচে বা হলদে হয়ে যায়, তবে প্রতিকার হিসেবে প্রতি শতাংশ জমিতে ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে ছত্রাকের আক্রমণ রুখতে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। সকালের দিকে শুকনো ছাই ছিটিয়ে দিলেও চারা গরম থাকে এবং রোগবালাই কম হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সঠিক সময়ে এই পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন করলে চারার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। কৃষকরা যেন দ্রুত এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত