ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দিনাজপুরে টমেটো চাষে কৃষকের সাফল্য

দিনাজপুরে টমেটো চাষে কৃষকের সাফল্য

দিনাজপুর জেলায় টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন কৃষকরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত জাত ব্যবহারের ফলে নির্ধারিত মৌসুমের আগেই টমেটো উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন তারা। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে এবং সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের মাটি ও আবহাওয়ায় টমেটো চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাধারণত কৃষকরা সেপ্টেম্বরের প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ে বীজতলায় টমেটোর বীজ বপন করেন এবং অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জমিতে চারা রোপণ করেন। এর ফলে নভেম্বরের শেষ দিক থেকে ডিসেম্বরের শুরুতেই আগাম টমেটো সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। শীত মৌসুম শুরুর আগেই কৃষকরা পলিথিন টানেল ও মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে টমেটোর চারা রোপণ করছেন। ফলে কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষতি কম হচ্ছে এবং ফলনও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

দিনাজপুর সদর, বীরগঞ্জ, কাহারোল, খানসামা, চিরিববন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ি, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, বোচগঞ্জ, বিরল ও ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠজুড়ে এখন সবুজ টমেটো ক্ষেতের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, শীত মৌসুমের তুলনায় টমেটো বাজারে তুলতে পারায় তারা দ্বিগুণেরও বেশি দাম পাচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ভালো লাভ করা সম্ভব হচ্ছে।

বিরামপুর উপজেলার এক কৃষক বলেন, শীতকালীন টমেটো চাষ করে এবার ভালো লাভের আশা করছি। বাজারে এখন টমেটোর দাম ভালো, তাই আগের চেয়ে আয়ও বেশি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, বারি টমেটো-৪, বারি টমেটো-১৪সহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাত আগাম চাষে ভালো ফলন দিচ্ছে। পাশাপাশি সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতি অনুসরণ করায় রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম হচ্ছে।

শীতকালীন টমেটো চাষের ফলে শুধু কৃষকরাই লাভবান হচ্ছেন না, এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিক, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সংশ্লিষ্টরাও উপকৃত হচ্ছেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত কুয়াশা ও হঠাৎ বাজারদর কমে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে ৫২৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগাম সবজি চাষ আরও সম্প্রসারণে সরকারিভাবে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে দিনাজপুরে টমেটো চাষ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এই সাফল্য আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত