
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬১, নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে বিএনপি-জামায়াতসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ প্রার্থী তাদের হলফনামায় যে তথ্য দিয়েছেন তাতে অর্থ-সম্পদে শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ। তবে শিক্ষায় শীর্ষে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম।
জানা গেছে- নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আজিজ, জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুল হাকিম, ইসলামী আন্দোলনের মো. এমদাদুল্লাহ, জাতীয় পার্টির এম ইউসুফ আহমেদ ও এবি পার্টির মোকছেদুল মোমিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা সবাই বাছাইয়েও টিকেছেন। এরমধ্যে বিএনপির আব্দুল আজিজ তিন বার ইউপি চেয়ারম্যান ও একবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেও পরবর্তীতে তা বাতিল হয়ে যায়। পেশায় কৃষক এ প্রার্থী তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার ২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে যা উপহার হিসাবে পাওয়া। নগদ অর্থ রয়েছে ২০ লাখ ৫৪৮ টাকা। সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকে জমা আছে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯২ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে আয়কর রিটার্নে উল্লেখিত তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৩১৬ টাকা। তার স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৬ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রার্থীর আট কক্ষের একটি বাড়ি থাকলেও কোনো গাড়ি নেই বলে হলফনামায় দেওয়া তথ্যে জানা গেছে। তার নামে থাকা তিনটি মামলার মধ্যে একটিতে খালাস পেয়েছেন। অন্য দুটি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিমের পেশা অধ্যাপনা। তিনি এর আগে দুই বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও একবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর মধ্যে তিনি বেশ কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্বপালন করেছেন। প্রার্থীদের মধ্যে তার সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে কম। তার মোট ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার কোনো স্বর্ণ নেই।
কোনো কৃষি জমি বা নিজস্ব বাড়ি নেই তার। তিনি পৈত্রিক বাড়িতে যৌথ পরিবারে বসবাস করেন। তবে বাড়ি না থাকলেও তার একটি নিজস্ব গাড়ি (মাইক্রোবাস) রয়েছে। এ প্রার্থীর ব্যাংকে ৪৯,৩৩২ টাকা জমা রয়েছে। আর নগদ অর্থ রয়েছে ৯ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৭ টাকা। তিনি অনার্স-মাস্টার্সসহ কামিল পাশ। জামায়াতের এ নেতার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হলেও পরে তিনি সে মামলায় খালাস পেয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. এমদাদুল্লাহর পেশাও শিক্ষকতা। তিনি দাওরায়ে হাদিস পাশ। তার নগদ টাকা রয়েছে ১০ লাখ, আর ব্যাংকে জমা আছে ২১০০ টাকা। তবে তার ৬ ভরি স্বর্ণ আছে। ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত একটি বাড়ি আছে তার। তিনি বাড়ি ভাড়া দিয়ে বার্ষিক ৬০ হাজার টাকা পান, এছাড়া শিক্ষকতার বেতন থেকে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আয় করেন। তার তিন শতাংশ অকৃষি জমিসহ মোট ৩০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। এবি পার্টির মোকছেদুল মোমিনের পেশা চাকরি। স্নাতকোত্তর পাশ এ প্রার্থীর চাকরি থেকে বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা। তার নগদ অর্থ আছে দুই লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৭ টাকা। একটি প্রাইভেট কার থাকলেও তার কোনো বাড়ি নেই। তার ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। তার মোট ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৭ টাকার সম্পদ আছে বলে আয়কর রিটার্নে দেখান হয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম ইউসুফ আহমেদের পেশা ব্যাবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম, তিনি ৮ম শ্রেণি পাশ। বিবাহিত জীবনে তার তিনজন স্ত্রী বর্তমান রয়েছেন। তার ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ ছয় হাজার ৮২ টাকা। মৎস্য ও কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় সাত লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বসবাসের জন্য ১৩ শতাংশ জমির পাকা ভবন ও কৃষি জমিসহ তার মোট এক কোটি ১০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে আয়কর রিটার্নে তার মোট ১৫ লাখ ছয় হাজার ৮২ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে দেখিয়েছেন।