
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং চালু হওয়ায় বেড়েছে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা। গত বছরের ১৭ নভেম্বরের পর দুই দফায় দেশের বিভিন্ন জেলার মোট ১৬৫টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং উপস্থিতির হার বাড়াতে ১৬৫টি উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩১ লাখ শিক্ষার্থীকে দেশীয় ফলসহ ডিম, দুধ, কলা, পাউরুটি ও বিস্কুট দেওয়া হবে। সপ্তাহের ৫ দিনই শিক্ষার্থীরা এ খাবার পাবে। সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, জলঢাকা উপজেলায় মোট ২৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী ব্যতিত সকল স্কুলের ৩৬ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় রয়েছেন। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কনকনে শীতের মধ্যেও কোমলমতী শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছেন। স্কুলে খাবার পাওয়ার আশায় এখন আর আগের মতো বাড়িতে খেলা না করে স্কুলে আসছেন তারা। অনেক স্কুলে শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও দেখা গেছে। কাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিভা মনি বলেন, আগে স্কুলে কম আসতাম এখন আর বাড়িতে খেলা না করে প্রতিদিনই স্কুলে আসি।
একই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেনা আক্তার জানান, স্কুলে প্রতিদিন খাবার পাই, তাই আমিসহ আমাদের গ্রামের কোনো বাচ্চাই এখন আর বাড়িতে থাকে না। সবাই স্কুলে এসে পড়া শেষ করে হাসিমুখে খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরি।’ কাজিরহাট সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, স্কুল ফিডিং চালু হওয়ায় বাচ্চারা আনন্দের সঙ্গে স্কুলে এসে লেখাপড়া শেষ করে তাদের প্রাপ্ত খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের এ কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে।’
উত্তর চেরেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিয়ার রহমান জানান, স্কুল ফিডিং চালু হওয়ায় আগের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী স্কুলে আসছেন, তবে চলতি বছরে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তিকৃত নতুন শিক্ষার্থীরা স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় না থাকায় শিশু বাচ্চাদের নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে, অতিদ্রুত নতুন শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে যুক্ত করার অনুরোধ জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ বলেন, স্কুল ফিডিং চালু হওয়ায় আগের চেয়ে অনেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেড়েছে, আর যেসকল শিক্ষার্থী নতুন করে ভর্তি হচ্ছে তারা আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় চলে আসবে।