
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সংগঠনটির সাবেক সিবিএ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে পূর্ণ দিবস ধর্মঘট পালন করা হবে। একইভাবে পরদিন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববার বিকাল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সংগঠনটির সাবেক সিবিএর পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, সারাদেশ নির্বাচনি ডামাডোলে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সরকার দেশের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, গত দেড় বছর ধরে আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সরকার বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া একটি চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। কর্মসূচির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এরপরও সরকার এই প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, আন্দোলনের মধ্যে গত বছর এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ফলে চুক্তি প্রক্রিয়া চালাতে আইনি কোনো বাধা থাকল না। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের ওপর বিভক্ত রায় দেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করলেও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার ভিন্নমত দিয়ে রিট আবেদন খারিজ করেন। পরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান।