
যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদে ৯০০ টন কয়লাবোঝাই এমভি আরাফাতের নূর নামে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় রাজ টেক্সটাইল মিলের পেছনে মীর রাসেল ঘাটে এ জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজ আফ্রিকা থেকে ওই কয়লা আমদানি করে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় এনেছিল। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, আফ্রিকা থেকে বড় জাহাজে (মাদার ভেসেল) করে কয়লা মোংলা সমুদ্রবন্দরের হাড়বাড়িয়ার ৪ নম্বর ঘাটে আনা হয়েছিল।
সেখান থেকে ৩১ জানুয়ারি নওয়াপাড়া নদীবন্দরের রাজঘাট এলাকায় ছোট কার্গো জাহাজ এমভি আরাফাতের নূরে কয়লাবোঝাই করে ভৈরব নদের একটি ঘাটে নোঙর করে। গত সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজটি কয়লা আনলোড করার জন্য সেখান থেকে ভাঙ্গাগেট এলাকায় রাজ টেক্সটাইল মিলের পেছনে মীর রাসেল ঘাটে আসে। মধ্যরাতে ভাটার সময় দুটি দড়ি ছিঁড়ে জাহাজ কাত হয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে জাহাজটি ধীরে ধীরে নদীর পানিতে ডুবে যায়। এমভি আরাফাতের নূর মাস্টার দিদারুল আলম বলেন, ৩১ জানুয়ারি থেকে জাহাজটি রাজঘাট এলাকায় নোঙর করা ছিল। গত সোমবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গাগেট এলাকায় মীর রাসেল ঘাটে কয়লা আনলোডের জন্য নোঙর করা হয়। মধ্যরাতে জাহাজের দুটি দড়ি (আলামণ্ডকাচী) ছিঁড়ে কাত হয়ে যায়।
গত মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে জাহাজে পানি উঠতে শুরু করে এবং ভোর রাতের মধ্যে নদীর পানিতে ডুবে যায়। জাহাজে আমিসহ ৮ জন সদস্য ভালো আছি। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজ নওয়াপাড়া অফিসের ইনচার্জ মোহাম্মদ রিদুয়ান কবির বলেন, ভৈরব নদে ডুবে যাওয়া এমভি আরাফাতের নূর কার্গো জাহাজে প্রায় ৯০০ মেট্রিক টন কয়লা ছিল। যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। উদ্ধারকাজ শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া নদীবন্দর টার্মিনাল ভবনের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, খবর পাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।