ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ফটিকছড়িতে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

ফটিকছড়িতে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুসহ  চারজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গত একদিনে পৃথক তিন ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর হয়েছে। এতে এলাকার শোকের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার রাতে চোরের অপবাদে উপজেলার দাঁতমারায় নুরুল আবছা নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা, গতকাল রোববার দুপুরে হেঁয়াকোতে ছাত্রদল নেতা রাশেদুল আনোয়ার টিপুর লাশ উদ্ধার, দুপুর দেড়টার ভুজপুরে ব্রিক ফিল্ডে মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে দুই শিশু সাকি আক্তার (৯), সানজিদা আক্তারের (১০) মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ভূজপুর থানাধীন দাঁতমারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বারমাসিয়া খন্দকার পাড়ায় সালিশ চলাকালে চোর হিসেবে অভিযুক্ত করে স্থানীয়রা বেধড়ক মারধর করে মো. নুরুল আবছারকে। এতে আহত হন রাসেল নামের আরেকজন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল আবছারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাসেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া গতকাল দুপুরে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়ন এলাকায় হেয়াকোঁ পল্লী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি কক্ষ থেকে স্থানীয় কলেজ ছাত্রদল নেতা রাশেদুল আনোয়ার টিপু নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই স্থান থেকে আরমান নামে আরও এক যুবককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত রাশেদুল আনোয়ার টিপু দাঁতমারা ইউনিয়নের মুহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিনের ভাগ্নে।

স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকার পর গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে রোববার দুপুরে রোববার উপজেলার ভূজপুর থানার অন্তর্গত পূর্ব ফটিকছড়ির দত্তপাড়া এলাকার পশ্চিম পাশে করিম বাপের বাড়ির নিকটবর্তী একটি ব্রিক ফিল্ডে মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো, ওই এলাকার হাবিবুর রহমানের মেয়ে সাকি আক্তার (৯) এবং একই বাড়ির জাকির হোসেনের কন্যা সানজিদা আক্তার (১০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিক ফিল্ডে মাটি কাটার ফলে প্রায় ২০ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়, যেখানে পানি জমে ছিল। খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ওই গর্তে পড়ে যায় দুই শিশু। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে, তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, সালিশ চলাকালে চোর হিসেবে অভিযুক্ত করে স্থানীয়দের মারধরের শিকার হয়ে নিহত মো. নুরুল আবছার লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। এছাড়া দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকোঁ এলাকায় রাশেদুল আনোয়ার টিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, অচেতন অবস্থায় আরও একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তাছাড়া ভূজপুর এলাকায় গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে নিহত দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিশুদের লাশ দাফনের জন্য হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত