
ঢাকার সাভার উপজেলার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের অন্তর্গত ভাদাইল এলাকা। এই এলাকার কোল ঘেঁসেই গড়ে উঠেছে দুটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ডিইপিজেড নতুন ও পুরাতন জোনসহ কয়েকশ’ শিল্পকারখানা, যেখানে কাজ করেন কয়েক লাখ শ্রমজীবী মানুষ আর এর বড় একটা অংশ বসবাস করেন এই ভাদাইল এলাকায়। জনবসতি ও শিল্পকারখানায় গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় অধিকাংশ সড়কই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় কাদার সাগর, আর শুকনো মৌসুমে ধুলায় ভরে যায় পুরো এলাকা। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে জমে থাকা পানিতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের চিত্র।
এই এলাকায় কয়েক লাখ মানুষের বসবাস। এলাকার চারপাশে কয়েকশ’ শিল্প কারখানায় প্রতিদিন যাতায়াত করে হাজার হাজার কর্মজীবি মানুষ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীসহ এলাকায় বসবাসকারি লাখ লাখ মানুষ এই কাদা পানি মাড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে। এই এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে প্রতিটি শাখা সড়ক খানাকন্দে ভরপুর, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে ভরে গিয়ে পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে। ভাদাইল দক্ষিণ পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান মার্কেটের কর্ণদার মো. শাহজাহান মিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন- বছরের পর বছর ধরে এই রাস্তাগুলার এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নাই। যার কারণে এখন আমরা ভোগান্তিতে পরছি। আমার মার্কেটের সামনে প্রায় নয় মাসই পানি জইমা থাকে, ফলে দোকানদারেরা কাস্টমার না পাইয়া দোকান ছাইড়া দিতেছে, বাসাবাড়ির ভাড়াটিয়া অন্য এলাকায় চইলা যাইতেছে ফলে আমারা ক্ষতির মধ্যে পড়ছি।
ভাদাইল দক্ষিণ পাড়ার জামি’য়াতুল কুরআন ওয়াস সুন্না মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ইসরাফিল হোসেন বলেন- দীর্ঘ ১৫/১৬ বছরের বেশি সময় ধরে এই এলাকার রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে ঠিকমতো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। মাদ্রাসায় ছাত্ররা আসাযাওয়ায় অনেক অসুবিধা হয়, কাদা পানি পাড়াইয়া মাদ্রাসায় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসতে যাইয়া অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হয়।
বেপজা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ভাদাইল পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া আরিবা বলেন আমার বাড়ি ভাদাইল পূর্ব পাড়া থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। প্রতিদিন পায়ে হেটে ও অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হয়, কিন্তু রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে অটোরিকশা পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানির কারণে রিকশাও পাওয়া যায় না, আবার কাদাপানি দিয়ে হেঁটে স্কুলে যেতে দেরি হয়।
ভাদাইল উত্তর পাড়ার এক ভাড়াটিয়া আমেনা বেগম বলেন, এই ভাদাইল এলাকার রাস্তা এতটাই খারাপ অবস্থা- প্রতিদিন সকালে কারখানায় যাওয়ার সময় অনেক কষ্ট হয়।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমি শুনেছি এই এলাকার রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা। দ্রুত সম্ভব উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষথেকে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আছে সেগুলো শিগগিরই ইস্টিমেট করে কাজ ধরার ব্যবস্থা করবো।