ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মিলল অতিরিক্ত সাড়ে ৪৩ টন চাল খাদ্যগুদাম সিলগালা

মিলল অতিরিক্ত সাড়ে ৪৩ টন চাল খাদ্যগুদাম সিলগালা

নেত্রকোনার মদনে সরকারি খাদ্য গুদামে অতিরিক্ত ৪৩ দশমিক ৫৬০ টন চাল পাওয়ার ঘটনায় গুদাম সিলগালা করেছে খাদ্য বিভাগ। এর আগে ট্রাকভর্তি ২০ টন সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে নেমে এ অনিয়মের তথ্য সামনে আসে।

গতকাল রোববার খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম এ তথ্য জানান। এরআগে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত গুদামে তদন্ত কাজ করেন। পরে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মদন উপজেলার নেত্রকোনা-মদন সড়কের সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে ৬৬৭ বস্তায় প্রায় ২০ টন সরকারি চাল জব্দ করে প্রশাসন। এসময় ট্রাকের চালক শামীম মিয়া ও হেলপার শাহীন মিয়াকে আটক করা হয়।

পরদিন শুক্রবার সকালে এ ঘটনায় মদন থানায় মামলা করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা দুলাল মিয়া। মামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এনামুল হক আনারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। শনিবার বিকেলে খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেন।

তদন্তকালে গুদামের ধান-চালের স্টক মিলিয়ে দেখা হলে হিসাবের বাইরে অতিরিক্ত ৪৩.৫৬০ টন চাল পাওয়া যায়। এছাড়া গুদাম ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে। তদন্ত কর্মকর্তা সেলিমুল আজম সাংবাদিকদের বলেন, গুদামে জমা রেখে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে এসব চাল মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সুযোগ বুঝে এগুলো পাচার করা হতো।

তিনি বলেন, গুদামে পাওয়া অতিরিক্ত ৪২.৫৬০ টন চাল জব্দ করা হয়েছে। এই চাল গুদামের স্টকের সাথে যুক্ত করা হবে। আর প্রশাসনের হাতে জব্দ হওয়া ২০ টনের চালের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ২০ টন চালের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান জানান, এই ঘটনায় তার কোন দায় নেই। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের পাঠানো পাক্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি গুদামের ধান-চালের স্টকের বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন। মদন খাদ্য গুদামে অতিরিক্ত চাল রয়েছে এটা তিনি জানতেন না। জানলে নিজেই অভিযান চালাতেন বলেও জানান। মাসে জেলার সা-আটটি গুদাম তিনি পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত