
ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে আবারও প্রাণ কেড়ে নিল। গতকাল সোমবার ভোরে আতাদি ফ্লাইওভারে মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় চালক ও হেলপার নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে গত ৪ দিনে একই অংশে তিনটি দুর্ঘটনায় মোট ৬ জনের মৃত্যু হলো। গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার আতাদি ফ্লাইওভারের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী গাছের চারাবোঝাই একটি ট্রাক ধীরগতিতে চলার সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির মাছবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাছবাহী ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক ও হেলপার নিহত হন। নিহত চালকের নাম মো. শামিম (৩০)।
তিনি যশোর কোতোয়ালি থানার চাচড়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত হেলপারের বয়স আনুমানিক ২৮ বছর হলেও তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই মো. সোহেল খান জানান, লাশে উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আতাদি ফ্লাইওভারের ভাঙ্গা অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ভোররাতে দ্রুতগতির যানবাহন প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিয়া ফ্লাইওভারে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় চালক ও সহকারী নিহত হন।
গত শনিবার ভোর ৪টার দিকে বগাইল ও বামনকান্দার মাঝামাঝি স্থানে বাসের ধাক্কায় ট্রাকচালক ও তার বাবা প্রাণ হারান। টানা তিনটি দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যুর পর স্থানীয়রা দ্রুত সড়ক সংস্কার ও কঠোর গতিনিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।