
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিচকাঁটা গ্রামে ভাঙা স্লুইচ গেট দিয়ে জোয়ারের নোনা পানি ঢুকে শত শত একর ফসলি জমি প্লাবিত হচ্ছে। লবণ পানি প্রবেশ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। এতে কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার শংকায় রয়েছেন এলাকারাসী। জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে বসতবাড়ির আঙিনায়। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। তবে, পাশেই নতুন স্লুইচের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। অতিদ্রুত স্লুইচটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিচকাঁটা সুইজ গেটটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ছিল। বিগত দুই বছর পূর্বে সেখানে একটি নতুন স্লুইচ গেট নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। সেটার কাজ এখন প্রায় শেষের পথে। শুধুমাত্র ব্লক বসালেই শেষ। কিন্তু এর মধ্যেই পুরাতন ভাঙা স্লুইচ দিয়ে নোনা পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। এতে শত শত একর জমি অনাবাদি হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের মতে, নিচকাঁটা, নবীপুর, টুঙ্গিবাড়িয়া, মজিদপুর, নাওভাঙ্গা ও কুমিরমারাসহ অন্তত দশটি গ্রামের ফসলি জমিসহ কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া স্লুইচ সংলগ্ন বাসিন্দাদের ঘর বাড়ির আঙিনায় পানি প্রবেশ করে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অতিদ্রুত নতুন স্লুইচটি চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন কৃষকসহ স্থানীয়রা।
কুমিরমারা গ্রামের কৃষক সুলতান গাজী, নিচকাঁটা গ্রামের রশিদ মাতুব্বর, মিলন তালুকদার ও মাও. আব্দুর রশিদসহ আরও অনেকে জানান, নিচকাঁটার ভাঙা স্লুইচ দিয়ে নোনা পানি প্রবেশ করে তাদের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এরমধ্যেই অনেক জমি অনাবাদি হয়ে গেছে। অতিদ্রুত নতুন স্লুইচ গেটটি চালু করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা। নতুন স্লুইচের স্থানীয় ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, অতিবৃষ্টির কারনে কাজটি বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে,পানি নিষ্কাশন করে আগামী ১ মাসের মধ্যেই নতুন স্লুইচ গেটটি চালু করার ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।