
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের বনগাঁ এলাকার কৃষক মো. আব্দুল বারেক মোড়ল ২ বছর ধরে লালন-পালন করে প্রস্তুত করেছেন বিশাল আকৃতির ফিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড়।
আদর করে এর নাম রাখা হয়েছে ‘নেত্রকোনার কিং’। প্রায় ৮০০ কেজিরও বেশি (প্রায় সাড়ে ২০ মণ) ওজনের এই গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ‘নেত্রকোনার কিং’ এখন এলাকায় বেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিনই গরুটি দেখতে মোড়ল বারেকের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। কৃষক আব্দুল বারেক জানান, বড় গরু পালনের শখ থেকেই তিনি ২ বছর ধরে সন্তানের মতো যত্ন করে ‘নেত্রকোনা কিং’-কে বড় করেছেন।
কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার না করে শুধু সবুজ ঘাস, খড়, চালের গুঁড়া ও খৈল, চিরা, কলা খাইয়েই গরুটিকে লালন করেছেন। বর্তমানে এর পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘নেত্রকোনার কিং বর্তমান ওজন প্রায় ৮০০ কেজি।
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এর দাম ৭ লাখ টাকা চেয়েছি। স্থানীয় পাইকাররা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন। তবে আমি সরাসরি এমন একজন ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে চাই, যিনি নিজেই কোরবানি দেবেন।’
কৃষক আব্দুল বারেক জানান, তিনি গরুটিকে কোরবানির হাটে তোলার ইচ্ছা রাখেন না। তার ভাষায়, ‘হাটে তুললে ক্রেতার চেয়ে উৎসুক মানুষের ভিড় বেশি হয়। নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। আবার কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে ফেরত আনা কঠিন হবে।
তাই সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে চাই।’ প্রতিবেশীরা বলেন, ‘বারেক একজন পরিশ্রমী কৃষক। দুগ্ধ উৎপাদন খামারের মধ্যেও তিনি অনেক যত্নে ‘কিং’-কে বড় করেছেন। এখন গরুটির ভালো দাম পেলে তার পরিশ্রম সার্থক হবে।’ এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, ‘নেত্রকোনার কিং’ বর্তমানে সদর উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু। বিদেশি জাতের হলেও এটি প্রাকৃতিক পরিবেশেই বড় হয়েছে’।