ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নরসিংদীতে ওজন অনুযায়ী কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি গরু

নরসিংদীতে ওজন অনুযায়ী কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি গরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলাজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, মহিষ ও ছাগল মোটাতাজাকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে। কাঁচা ঘাস, খড়, ভুষি ও দানাদার প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে লালন-পালন করা পশুগুলোকে বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। এবার নরসিংদীর কয়েকটি খামারে নতুনভাবে চালু হয়েছে লাইভ ওয়েট বা ওজন অনুযায়ী কেজি দরে গরু বিক্রির ব্যবস্থা। এতে ক্রেতারা সরাসরি গরুর ওজন অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।

খামারিদের দাবি, এই পদ্ধতিতে গরু কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা যেমন প্রতারণার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকছেন, তেমনি তুলনামূলক কম খরচে পছন্দের পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে দিন দিন এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের কর্মচারী ও মালিকরা। গরুকে নিয়মিত গোসল করানো, খাদ্য সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

খামারিদের পাশাপাশি অনেক কৃষকও পারিবারিকভাবে লাভের আশায় কোরবানির পশু লালন-পালন করছেন। দেশের বিভিন্ন পশুর হাট থেকে ঈদের ৬ থেকে ১১ মাস আগে গরু, মহিষ ও ছাগল কিনে এনে পালন শুরু করেন তারা। এবারও জেলার বিভিন্ন খামারে শাহীওয়াল, সিন্ধি, দেশাল, ফ্রিজিয়ান, ক্রস ও ব্রাহমা জাতের গরু লালন-পালন করা হচ্ছে।

খামার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করায় নরসিংদীর গরুর চাহিদা শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও রয়েছে ব্যাপক। তাছাড়া হাটের ভোগান্তি এড়িয়ে সরাসরি খামার থেকে গরু কেনা এবং ঈদের আগে বাড়িতে বিনামূল্যে ডেলিভারি সুবিধা থাকায় অনেক ক্রেতা খামারমুখী হচ্ছেন।

নরসিংদীর হাম্বা ফার্মসহ কয়েকটি খামারে এবার দেশীয় কোরবানির গরু ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। খামারের পরিচর্যাকারী সোহেল বলেন, আমরা প্রতিদিন তিন বেলা গরুকে প্রাকৃতিক দানাদার খাবার খাওয়াই। দুই বেলা গোসল করানো হয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। ক্রেতারা গরু পছন্দ করার পর ঈদের আগে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার বড় আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন খামারে ৩৫০ কেজি থেকে ১১০০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের গরু রয়েছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

হাম্বা ফার্মের ম্যানেজার ফারুক ইসলাম বলেন, এ বছর আমরা ২২০টি গরু প্রস্তুত করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন কাঁচা ঘাস, খই, কুড়া ও ভুসি দিয়ে এগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। এরইমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আশা করছি বাকি গরুগুলোও দ্রুত বুকিং হয়ে যাবে। এ বছর বড় গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতারা হাটের কষ্ট এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে খামারে এসে গরু পছন্দ করছেন। আমরা ৬৫০ টাকা কেজি দরে গরু বিক্রি করছি। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।

অন্যদিকে গ্রীন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান আহসান শিকদার বলেন, ২০১৪ সাল থেকে আমরা গরু লালন-পালন করে আসছি। এ বছর কোরবানি উপলক্ষে ২০০টি গরু প্রস্তুত করেছি। আমাদের খামারে ২০০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। ৪০০ কেজির নিচের গরু ৫৫০ টাকা এবং ৫০০ কেজির বেশি গরু ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। ক্রেতারা এসে গরু দেখে, বুঝে ও পছন্দ করে যান। পরে ঈদের আগে তাদের পছন্দমতো সময়ে গরু ডেলিভারি দেওয়া হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, খামারিদের দেশীয় পদ্ধতিতে নিরাপদ পশু মোটাতাজাকরণের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যে ক্ষতিকারক স্টেরয়েড বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম বলেন, আগের চেয়ে এখন আমরা খামারিদের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ করছি। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণের জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর নরসিংদীর ছয়টি উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে জেলার চাহিদা রয়েছে ৭৮ হাজার ৬৪৫টি পশু। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

খামারিদের প্রত্যাশা, দেশের বাইরে থেকে অতিরিক্ত পশু প্রবেশ না করলে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকলে এবার কোরবানির মৌসুমে ন্যায্য মূল্য পেয়ে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত