ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই সেবা ব্যাহত

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই সেবা ব্যাহত

কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও চালক না থাকায় সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে চিকিৎসক সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো, নষ্ট আসবাবপত্র ও অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, আঙিনায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তিনটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। রোদণ্ডবৃষ্টি ও অবহেলায় ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। চালক সংকটের কারণে সচল অ্যাম্বুলেন্সটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।

সরকারি সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের এখন নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

একই সঙ্গে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর রোগী এলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বড় দুর্ভোগ।

পাথরঘাটা-বরিশাল রুটের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক মাসুম বিল্লাহ জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে বরিশাল পর্যন্ত ভাড়া সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অনেক সময় পাঁচ হাজার টাকাও গুণতে হয়। হাসপাতালে ভর্তি রোগী মো, ইউনুস মুন্সির সঙ্গে আশা অভিভাবক তার পিতা মো, সিদ্দীকুর রহমান মুন্সী বলেন, হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বেশি টাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে হয়। গরিব মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টের।

শুধু অ্যাম্বুলেন্স সংকটই নয়, হাসপাতালজুড়ে রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে। হাসপাতালের বেড, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। কোথাও ভাঙা বেড, কোথাও অচল ফ্যান, আবার কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালটির অবকাঠামো ও সেবার মানের কোনো উন্নয়ন হয়নি। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজেই যেন চিকিৎসার অপেক্ষায়। এ বিষয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার প্রদীপ দত্ত জানায়, চালক সংকটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডক্টর মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানিয়েছেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগ বরিশাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত নূতন চালক নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অচল অ্যাম্বুলেন্সগুলো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলামের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চালক নিয়োগ, চিকিৎসক সংকট নিরসন, অচল অ্যাম্বুলেন্স মেরামত এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পাথরঘাটার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত